যুবভারতী কাণ্ডে অবশেষে জামিন পেলেন শতদ্রু, তদন্তে উঠে এল বড় তথ্য

Satadru Dutta Bail granted after 37 days

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: যতবারই আবেদন করছিলেন, ততবারই খারিজ করে দিচ্ছিল আদালত। সরকারপক্ষের আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল, শতদ্রু দত্ত প্রভাবশালী। তাই তাঁকে এখনই ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। ফলে একদিন থেকে দুদিন এভাবে টানা 37 দিন জেল জীবন কাটানোর পর অবশেষে জামিনে মুক্তি পেলেন মেসি কাণ্ডে অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত তথা বঙ্গ ক্রীড়া সংগঠক শতদ্রু দত্ত (Satadru Dutta Bail)। তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে খোদ আদালত।

তদন্তে উঠে এসেছে বেশ কিছু তথ্য

গত 13 ডিসেম্বর শহরে পা রেখেছিলেন ফুটবলের রাজপুত্র লিওনেল মেসি। তাঁর আগমনটা শুভ হলেও প্রস্থান একেবারেই শুভকর হয়নি। এদিন মেসিকে দেখতে না পেয়ে যুবভারতী স্টেডিয়ামে ভাঙচুর চালিয়েছিলেন উন্মত্ত দর্শকরা। ভেঙে ফেলা হয়েছিল স্টেডিয়ামের চেয়ার থেকে শুরু করে গেট এমনকি পাশে থাকা খাবারের স্টলগুলিও। সেই ঘটনার পরই তড়িঘড়ি গঠন করা হয় বিশেষ তদন্ত কমিটি। আর তারপরই ওই দিনই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয় মেসিকে ভারতে নিয়ে আসার মূল কারিগর শতদ্রুকে।

প্রথম ধাপে 14 দিনের জেল হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল বঙ্গ ক্রীড়া সংগঠককে। পরবর্তীতে দু দফায় বিচারবিভাগীয় হেফাজত দেওয়া হয়েছিল তাঁকে। এর মাঝে বারবার আদালতের কাছে জামিনের আবেদন করেও পাত্তা পাননি শতদ্রু। বিপরীত পক্ষের আইনজীবীদের তরফে শতদ্রুকে প্রভাবশালী তকমা দিয়ে তাঁকে আপাতত হেফাজতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।। মূলত সে কারণেই বঙ্গ ক্রীড়া সংগঠকের জেল জীবনের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দেয় আদালত। সেইসব পর্ব কাটিয়ে 37 দিন পর অবশেষে জামিন পেলেন শতদ্রু।

অবশ্যই পড়ুন: ফের কবে ভারতের জার্সিতে দেখা যাবে রোহিত শর্মা, বিরাট কোহলিকে? জানুন দিনক্ষণ

নিউজ 18 এর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটানা তদন্ত থেকে আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন লিওনেল মেসি মাঠে থাকার সময় তাঁর পিঠে এবং গায়ে বেশ কয়েকবার হাত দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল। তাঁকে স্পর্শও করেছিলেন অনেকে। তাতে বেশ বিরক্ত হয়েছিলেন মেসি। নিরাপত্তারক্ষীদের বলেছিলেন সে কথা। পরে গোটা বিষয়টি শতদ্রু দত্তকে জানানো হলে তিনি তড়িঘড়ি ঘোষণা করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সেখানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। এর ফলে নাকি শেষ পর্যন্ত দেড় ঘন্টার অনুষ্ঠান 20 মিনিটে শেষ করতে হয়েছিল তাঁদের। আর সেটাই দর্শকদের ক্ষোভের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

Leave a Comment