রক্তের মতো লাল হল লাদাখের আকাশ! কোনও অশনি সংকেতের ইঙ্গিত? ভাইরাল ভিডিও

Hanle Ladakh

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: লাদাখের হানলের (Hanle Ladakh) রাত মানেই নিখুঁত অন্ধকার, ঝকঝকে নক্ষত্র আর অদ্ভুত নীরবতা! তবে জানুয়ারির ১৯ আর ২০ তারিখ এই দুই রাতে সেই পরিচিত দৃশ্যটা অনেকটাই বদলে গিয়েছিল। হ্যাঁ, হানলের আকাশ হঠাৎ করে গভীর লাল আলোয় ঢেকে যায়। প্রথম দেখায় মনে হচ্ছিল একে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। কিন্তু তার আড়ালে লুকিয়ে ছিল এক ভয়ঙ্কর সতর্কবার্তা। জানুন আসল সত্যি।

কী এই মহাজাগতিক ঘটনা?

আসলে সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয় এই লাভা আভায় রাঙা আকাশের ছবি এবং ভিডিও। অনেকেই একে ভারতের নর্দান লাইট বলে দাবি করতে শুরু করে। তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছে, এটি কোনও সাধারণ জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক দৃশ্য নয়, বরং গত ২০ বছরের সবথেকে শক্তিশালী সৌর বিকিরণ ঝড়ের সরাসরি প্রভাব।

বলে দিই, গত ১৮ জানুয়ারি সূর্যে ঘটে এই শক্তিশালী X-ক্লাস সোলার ফ্লেয়ার। আর এই বিস্ফোরণ থেকেই তৈরি হয়েছিল বিশাল আকারের করোনাল মাস ইজেকশন, যেটি অত্যন্ত উত্তপ্ত প্লাজমার একটি মেঘ যা নিজের সঙ্গে ভয়ংকর চৌম্বক শক্তিকে নিয়ে আসে। আর এই সৌর মেঘ প্রায় ১৭০০ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড গতিতে পৃথিবীর থেকে এমনকি মাত্র ২৫ ঘন্টার মধ্যেই তা পৃথিবীর চুম্বক ক্ষেত্রের উপর আছড়ে পড়ে।

তবে এই সংঘর্ষের ফলে সৃষ্টি হয়েছিল G4 স্তরের জিওম্যাগনেটিক স্টর্ম, যা সরাসরি Severe বা গুরুতর বলে চিহ্নিত করা হয়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, পৃথিবীকে মহাজাগতিক বিকিরণ থেকে রক্ষা করা চৌম্বক ঢাল সেদিন বিরাট ধাক্কা খেয়েছিল। আর এই সময় সূর্য থেকে আসা চার্জযুক্ত কণাগুলো পৃথিবীর ম্যাগনেটোস্ফিয়ারের  সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছিল, যার ফলে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার উচ্চতায় থাকা অক্সিজেন পরমাণু উত্তেজিত হয়ে লাল আলোর বিকিরণ করে। সেটিই হানলের আকাশে দেখা যায়।

আরও পড়ুন: ভোটের আগে শক্তি বাড়াচ্ছে JUP, নতুন তিন সঙ্গী হুমায়ুনের

সবুজের বদলে তাহলে কেন লাল রং?

সাধারণত মেরু অঞ্চলে অরোরা সবুজ রঙের হয়। তবে হানলে মেরু অঞ্চল থেকে অনেকটাই দক্ষিণে অবস্থিত। সেই কারণে এখানে অরোরার ওপর প্রান্ত দেখা গিয়েছে, যা সাধারণত লাল রং। তাই লাদাখের আকাশে এই অস্বাভাবিক রক্ত লাল আভা দেখা দিয়েছিল। তবে এই ধরনের সৌর ঝড় শুধু আকাশে আলো তৈরি করে থেমে থাকে না, বরং এর প্রভাব হতে পারে ভয়াবহ। হ্যাঁ, স্যাটেলাইট পরিষেবার উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এমনকি যোগাযোগ ব্যবস্থা ও জিপিএস সিগন্যাল, পাশাপাশি বিদ্যুৎ, পাওয়ার সাপ্লায়কে প্রভাবিত করতে পারে। আর মহাকাশ অভিযানের নিরাপত্তার উপরেও প্রভাব পড়ে।

Leave a Comment