রয়েছে AC কোচ, তাও কেন ভারতীয় রেলের এই ট্রেনের নাম গরীব রথ! কারণ জানেন?

বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: এই মুহূর্তে ভারতীয় রেলের (Indian Railways) অধীনে রয়েছে 13 হাজারেরও বেশি যাত্রীবাহী ট্রেন। তবে সেই সব ট্রেনের মধ্যে এমন কিছু এক্সপ্রেস ট্রেন রয়েছে যেগুলি অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক দিক থেকে অন্যান্য এক্সপ্রেস ট্রেনের মতোই। রয়েছে অত্যাধুনিক AC থ্রি টায়ার কোচও। তবে এই ট্রেনগুলির নাম গরীব রথ (Garib Rath Express)। আসলে ভারতীয় রেলের গরীব রথ পরিষেবার অধীনে দেশের বিভিন্ন শহরের মধ্যে চলাচল করে এই ট্রেনগুলি। কিন্তু কখনও ভেবে দেখেছেন, এই ট্রেনগুলির নাম কেন বেছে বেছে গরীব রথ রাখা হল?

গরীব রথ নামকরণের নেপথ্য কারণ

সালটা 2006। সে বছরের 5 অক্টোবর গরীব রথ নামে বিশেষ এক্সপ্রেস পরিষেবা চালু করেছিল ভারতীয় রেলওয়ে। তৎকালীন রেলমন্ত্রী লালু প্রসাদ যাদবের হাত ধরে সহরসা থেকে পাঞ্জাবের অমৃতসর পর্যন্ত প্রথম গরীব রথ এক্সপ্রেসের উদ্বোধন হয়েছিল। এরপর ধীরে ধীরে এই বিশেষ পরিষেবার অধীনে দেশের বিভিন্ন শহরের মধ্যে আরও একাধিক ট্রেন চালাতে শুরু করে রেল। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে ভারতের বিভিন্ন শহরের একাধিক রুটে চালু রয়েছে গরীব রথ এক্সপ্রেস পরিষেবা।

কিন্তু কেন এই এক্সপ্রেস ট্রেনের নাম দেওয়া হল গরীব রথ? কমবেশি সকলেই জানেন, 2006 এ মূলত সাধারণ মানুষের পকেটের কথা চিন্তা করেই এই বিশেষ ট্রেন পরিষেবা চালু করেছিল রেল। ভারতীয় রেলের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল, অন্যান্য এক্সপ্রেস ট্রেনের তুলনায় অল্প খরচে যাতে শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ট্রেনে করে সাধারণ মানুষ এক স্থান থেকে নিজের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন সেটা সু নিশ্চিত করা। এক কথায়, সমাজের নিম্ন শ্রেণীর অর্থাৎ আর্থিক দিক থেকে পিছিয়ে পড়া মানুষদের কথা চিন্তা করেই এই এক্সপ্রেস ট্রেনের নাম দেওয়া হয় গরীব রথ। অর্থাৎ গরীবদের রথ।

না বললেই নয়, ভারতীয় রেলের গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন গরীব রথ এক্সপ্রেসে এসি 3 টায়ার এবং এসি চেয়ার কার কোচ রয়েছে। যেগুলির ভাড়া আর পাঁচটা উন্নত এক্সপ্রেস ট্রেনের তুলনায় অনেকটাই কম। উদাহরণস্বরূপ, হাওড়া থেকে পুরী পর্যন্ত যদি কেউ গরীব রথ এক্সপ্রেসের AC থ্রি টায়ারে করে যাতায়াত করতে চান তবে তাঁর ভাড়া পড়বে মাত্র 575 টাকা। যা অন্যান্য এক্সপ্রেস বা সুপারফাস্ট ট্রেনের তুলনায় অনেকটাই কম এবং সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে।

অবশ্যই পড়ুন: কালো মেঘে ঢাকবে আকাশ, ঘূর্ণাবর্তের জেরে ৫ জেলায় দুর্যোগ! আজকের আবহাওয়া

প্রসঙ্গত, গরীব রথ এক্সপ্রেসের থ্রি টায়ার কোচের ভাড়া দূরত্ব অনুযায়ী 500 টাকা থেকে 1300 টাকার মধ্যে। তবে এই ভাড়ার মধ্যে কিন্তু খাওয়ার অন্তর্ভুক্ত নয়। তার জন্য আলাদা করে খরচ করতে হবে যাত্রীদের। এছাড়াও IRCTC ওয়েবসাইট কিংবা কাউন্টার থেকে গরীব রথের টিকিট কাটলেও ওই টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করার সময় রেলের তরফে চাদর এবং বালিশ পাওয়া যাবে না। এর জন্যেও আলাদা করে অর্থ গুনতে হবে।

Leave a Comment