সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন। তবে তার আগে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাট নিয়োগের ইঙ্গিত দিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। তিনি জানালেন, খুব শীঘ্রই রাজ্যে আরও ১৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ করা হবে (West Bengal Teacher Recruitment)। শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার তেঘরিয়ায় এক সরকারি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি নিজেই এ কথা জানিয়েছেন। সূত্রের খবর, এদিন তেঘরিয়া শিক্ষানিকেতন নিকেতন হাইস্কুলে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। আর ওই স্কুলটিকে বাংলা মাধ্যম থেকে উন্নীত করে সরকারি কো-এড ইংরেজি এবং বাংলা মাধ্যম বিদ্যালয় হিসেবে চালু করার সূচনা হয়েছিল ওই অনুষ্ঠানে। সেখানেই বড়সড় ঘোষণা করেন তিনি।
রাজ্যে অতিরিক্ত ১৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগের ঘোষণা
এদিন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগে নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল তা কাটিয়ে ওঠার জন্য দ্রুত ২৬ হাজার অনিশ্চয়তার মুখে থাজা প্রার্থীর চাকরি ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেছেন, শুধুমাত্র ২৬ হাজার প্রার্থীর সমস্যা সমাধানে আমরা থেমে থাকব না, বরং এর পাশাপাশি আরও দ্রুত ১৫ হাজার শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। শিক্ষাক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়েও এদিন কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, স্কুলের মিড ডে মিল প্রকল্প আর উন্নয়নমূলক বিভিন্ন খাতে কেন্দ্র সরকার রাজ্যকে দিনের পর দিন বঞ্চিত করে আসছে। সেই সঙ্গে তিনি বিজেপিকেও নিশানা করেন।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। আর এটি আমাদের শিকড়ের ভাষা। তাই বাংলাকে ভালোভাবে শেখার উপরেই জোর দিতে হবে। পাশাপাশি ইংরেজি আর হিন্দি ভাষাকেও সমান ভাবে গুরুত্ব দিয়ে শেখা দরকার। কারণ, বাইরের রাজ্যে গেলে হিন্দি তো দরকারই। আর দেশের বাইরে গেলে ইংরেজি ছাড়া চলাই যাবে না। এদিকে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারি স্কুলগুলিতে ইংরেজি শিক্ষার প্রসার বাড়ানোর উপর জোর দিয়েছিলেন বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
আরও পড়ুন: ট্রেনের টিকিট থেকে শুরু করে খাওয়ার, সবই পাবেন বিনামূল্যে! বড় উদ্যোগ রেলের
প্রসঙ্গত, উত্তর ২৪ পরগনার বাগুইআটি অঞ্চলে অবস্থিত তেঘরিয়া শিক্ষানিকেতন স্কুলটি ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। আর দীর্ঘদিনের পুরনো এই বিদ্যালয় থেকে এবার সরকারি উদ্যোগে ইংরেজি আর বাংলা দুই মাধ্যমে পড়াশোনার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক আর পরিচালন কমিটির আবেদনের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এমনকি উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দমদমের সাংসদ সৌগত রায়, অদিতি মুন্সি, বিধানসভা ও পৌরসভার প্রতিনিধিরা এবং স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পরিচালন কমিটির সদস্যরা। এখন দেখার, এই শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া ঠিক কবে সম্পন্ন হয়।