প্রীতি পোদ্দার, বহরমপুর: হাওড়ার বালির পর এবার বহরমপুর (Berhampur)! রাতের বেলায় সকলের সামনেই ঘটে গেল হাড়হিম হত্যাকাণ্ড। বাড়ির পাশেই দুষ্কৃতীদের হাতে খুন হলেন এক তৃণমূল কর্মী। জানা গিয়েছে তিনি এলাকায় সক্রিয় তৃণমূল কর্মী ছিলেন। শুক্রবার রাতে সেই কর্মীকে লক্ষ্য করে চাকু দিয়ে কোপানো হয়। স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
ঠিক কী ঘটেছে?
স্থানীয় রিপোর্ট অনুযায়ী, গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার সন্ধে নাগাদ হরিহরপাড়া সংলগ্ন বহরমপুর থানার কুমরাদহ ঘাটে নিজের বাড়ির কাছে খুন হলেন এক তৃণমূল কর্মী। বছর ৪৪ এর মৃত ওই তৃণমূল কর্মীর নাম হায়াতুল্লাহ শেখ। রক্তাক্ত এবং গুরুতর অবস্থায় মাটিতে পরে থাকায় দ্রুত স্থানীয়রা তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি করানো হলেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। কিছুক্ষণ পরই মারা যান হায়াতুল্লাহ। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। উত্তপ্ত পরিস্থিতি এলাকা জুড়ে।
তৃণমূল কর্মীর পেটে ছুরি দিয়ে কোপ দুষ্কৃতীদের
তৃণমূল কর্মীর খুনের ঘটনার খবর পাওয়ার পরই বহরমপুর থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী এলাকায় পৌঁছেছে। তবে এখনও পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি বলেই জানা গিয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত হায়াতুল্লাহ শেখের নিজের বাড়ির পাশেই একটি ফার্নিচারের দোকান রয়েছে। এদিন স্থানীয় একটি চায়ের দোকানে কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে হায়াতুল্লাহর বিবাদ চলছিল। অভিযোগ উঠেছে সেই সময় কয়েকজন দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে তাঁর পেটে ছুরি দিয়ে কোপ মারে। রক্তাক্ত অবস্থায় হায়াতুল্লাহ মাটিতে পড়ে গেলে দুষ্কৃতীরা এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।
আরও পড়ুন: পার্পল লাইনে বাড়ল পরিষেবা, বদল প্রথম ও শেষ মেট্রোর টাইমেও
জানা যাচ্ছে, মৃত হায়াতুল্লাহ শেখ বহরমপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি আইজুদ্দিন মণ্ডলের শ্যালক। তাঁর অভিযোগ কংগ্রেস আশ্রিত দুষ্কৃতীরা ওই ঘটনা ঘটিয়েছে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে কংগ্রেস। রাজনৈতিক কারণেই হায়াতুল্লাহকে খুন করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। এদিকে মুর্শিদাবাদ কংগ্রেস নেতৃত্ব এই খুনের সঙ্গে তাদের কোনও কর্মীর জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁদের দাবি, তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণে এই খুন। ইতিমধ্যেই গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বহরমপুর থানার পুলিশ। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে। এখনো পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।