বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: রাশিয়া থেকে তেল কেনা সহ এক বিশেষ কারণে ভারতের উপর দুই ধাপে 50 শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে সাম্প্রতিককালে তিনি নিজেই বলছেন, ভারত ভ্লাদিমির পুতিনের দেশ থেকে তেল আমদানি একেবারে বন্ধই করে দিয়েছে (Donald Trump On India)। মূলত এমন মন্তব্যের পর এবার ভারতকে তৃতীয় একটি দেশ থেকে তেল কেনার প্রস্তাব দিলেন খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সংবাদসংস্থা রয়টার্স জানাচ্ছে, আমেরিকার দখলে থাকা ভেনেজুয়েলা থেকে ভারতকে তেল কেনার প্রস্তাব দিচ্ছেন ট্রাম্প।
ভেনেজুয়েলা থেকে তেল কিনবে ভারত?
গতবছর, ভেনেজুয়েলার খনিজ তেল কেনার কারণে 25 শতাংশ এবং রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে আরও 25 শতাংশ মিলিয়ে মোট 50 শতাংশ শুল্ক ভারতের ঘাড়ে চাপিয়ে ছিল আমেরিকা। নির্দেশ দিয়েছিলেন খোদ আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও সাম্প্রতিককালে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রশংসা করে ট্রাম্প বারবার দাবি করে এসেছেন ভারত নাকি রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে। আর সে কারণেই এবার আমেরিকা ভারতের উপর থেকে অতিরিক্ত শুল্ক তুলে দেবে।
এবার সেই আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ভেনেজুয়েলার তেলকে অস্ত্র বানিয়ে ভারতের সাথে সম্পর্কের বরফ গলাতে চাইছেন। এক কথায়, গত বছর যে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য তাদের বিভিন্ন ক্রেতাদেরকে চাপ দিচ্ছিল আমেরিকা, এবার সেই ভেনেজুয়েলার তেল কেনার জন্যই ভারতকে স্বাগত জানাচ্ছেন ট্রাম্প। সবচেয়ে বড় কথা, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে অপহরণ করার পর দেশটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আমেরিকা। ফলে স্বাভাবিকভাবেই সে দেশের বৃহত্তম তৈলভান্ডারের নিয়ন্ত্রণটাও আমেরিকার হাতেই। এবার সেই তেল ভারতকে বিক্রি করতে চাইছে তারা।
অবশ্যই পড়ুন: পাকিস্তানের ২০টি শহরে বিরাট হামলা BLA র, প্রাণ গেল একাধিক সেনা সহ পুলিশ কর্মীর
আমেরিকার খুব পরিষ্কার বক্তব্য, তারা ভারতের সাথে বাণিজ্য চুক্তির কথা বলায় ভারত ধাপে ধাপে রাশিয়া থেকে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন বক্তব্যের স্বপক্ষে প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে একাধিক রিপোর্ট। সেগুলিতেও দাবি করা হয়েছে, সত্যিই পুতিনের দেশ থেকে তেল আমদানি অনেকটাই কমিয়েছে নয়া দিল্লি। মূলত সে কারণেই এবার নাকি ভারতে তেলের চাহিদা পূরণ করতে ভেনেজুয়েলা থেকে এই বিশেষ পণ্য আমদানির জন্য ভারতকে স্বাগত জানাচ্ছে ওয়াশিংটন ডিসি। অনেকেই মনে করছেন, এর মধ্যে থেকেও নিজের লাভটা দেখছে আমেরিকা।