রাষ্ট্রসংঘে ইরানের পাশে দাঁড়িয়ে বিশ্বকে চমকে দিল ভারত, উদ্বেগে পশ্চিমি দেশগুলি

India Supporting Iran

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ফের রাষ্ট্রসংঘে নিজেদের স্বাধীন বিদেশনীতি স্পষ্ট করল নয়াদিল্লি। ইরানকে ঘিরে পশ্চিম দেশগুলির আনা মানবাধিকার সংক্রান্ত প্রস্তাবে ‘না’ ভোট দিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে চমক দিল ভারত (India Supporting Iran)। আর এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ভারত পশ্চিম দেশগুলির অবস্থানকে যে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

প্রস্তাবে কী বলা হয়েছিল?

আসলে গত ২২ জানুয়ারি জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের এক বিশেষ অধিবেশনে পশ্চিমি দেশগুলো একটি প্রস্তাব রেখেছিল। ওই প্রস্তাবে ইরানে সাম্প্রতিক গণবিক্ষোভ ঘিরে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ইরান জুড়ে বিরাট বিক্ষোভ শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, অর্থনৈতিক সংকট, লাগামছাড়া মূল্যবৃদ্ধি এবং মুদ্রার অবমূল্যায়ন থেকেই এই আন্দোলন। প্রস্তাবে দাবি করা হয়, বিক্ষোভ দমনে ইরানি প্রশাসন অতিরিক্ত বল প্রয়োগ করছে। এমনকি বহু মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেই কারণে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।

এদিকে এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছিল ফ্রান্স, মেক্সিকো, দক্ষিণ কোরিয়াসহ একাধিক পশ্চিমি দেশগুলি। কিন্তু ভারতের সঙ্গে চিনসহ মোট সাতটি দেশ এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে ‘না’ ভোট দিয়েছে। ফলত, এই প্রস্তাব নিয়ে সদস্য দেশগুলির মধ্যে মতভেদ সামনে আসে। আর ইরানের প্রস্তাবকে সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাখ্যান করে দেয় এবং জানায় যে, এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আর দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের চেষ্টা।

আরও পড়ুন: ‘সুদখোর ইউনূস’কে বিঁধে ফের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের বার্তা শেখ হাসিনার

কেন ইরানের পাশে দাঁড়াল ভারত?

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের এই অবস্থান হঠাৎ করে নেওয়া কোনও সিদ্ধান্ত নয়, বরং ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের কৌশলগত সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে ইরান থেকে জ্বালানি আমদানি, চারহার বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো প্রকল্প, পশ্চিম এশিয়ার ভারসাম্য রক্ষা, এই সমস্ত বিষয়ের উপরেই ভারতের স্বার্থ জড়িত। আর ভারত বরাবরই দাবি করে আসছে, মানবাধিকার ইস্যুকে রাজনৈতিক হাতিয়ার করা উচিত নয়। পাশাপাশি কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা ঠিক নয়। সেই কারণেই ইরানের পাশে ভারত।

Leave a Comment