সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: কোচবিহারের (Cooch Behar) মাথাভাঙায় ঘটে গেল এক ভয়াবহ ঘটনা। ঝামেলা থামাতে গিয়ে প্রাণ গেল একটি তৃণমূল কর্মীর। হ্যাঁ, লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধরের পর মৃত্যু হয়েছে তাঁর। জানা গিয়েছে, মৃত কর্মীর নাম সঞ্জয় বর্মন, বয়স 37।
কোচবিহারে খুন তৃণমূল কর্মী! কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?
স্থানীয় সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত 11:30 টা নাগাদ মাথাভাঙ্গা-1 ব্লকের জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েত অফিসের সামনে অজয় বর্মন এবং মন্টু বর্মনের মধ্যে তুমুল বচসা বাধে। সে সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে এগিয়ে আসেন তৃণমূল কর্মী সঞ্জয় বর্মন।
অভিযোগ উঠছে, ঝামেলা থামাতে আসলে উল্টে তাঁকেই লক্ষ্য করে হামলা চালায় অভিযুক্তরা। এমনকি লোহার রড দিয়ে তাঁকে বারবার আঘাত করা হয়। মাটিতে লুটিয়ে পড়ার পরও নাকি মারধর চলতে থাকে। গুরুতর আহত অবস্থায় কিছুক্ষণ পরেই প্রাণ হারান সঞ্জয় বর্মণ।
এদিকে এই ঘটনার পর তৃণমূলের স্থানীয় নেতারা দাবি করছে, এটি কোনো বচসা নয়, বরং পরিকল্পিত খুনই। জোরপাটকি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পরেশচন্দ্র বর্মন অবশ্য অন্য কথা বলেছেন। তিনি বলছেন, অভিযুক্তরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয়, বরং তাঁরা সবাই দুষ্কৃতি। এমন অপরাধীদের শাস্তি চাই।
আরও পড়ুনঃ মহিলাদের জন্য দেশের সবথেকে অসুরক্ষিত শহর কলকাতা, দিল্লি! নিরাপদ মুম্বই, রইল রিপোর্ট
এদিকে মৃতের পরিবার ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছে। সঞ্জয়ের কাকা ক্ষিতীন্দ্রনাথ বর্মন অভিযোগ করে বলেছেন, শুধুমাত্র ঝামেলার কারণে এরকম কোনো হত্যা পারে না। পরিকল্পনামাফিক আমার ভাইপোকে খুন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে মাথাভাঙ্গা থানার পুলিশ। মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যেই অভিযুক্ত অজয় বর্মন এবং মন্টু বর্মনকে গ্রেফতার করা হয়। আজ তাদের আদালতে তোলার কথা। পাশাপাশি ঘটনার পিছনে অন্য কোনো চক্রান্ত বা রাজনৈতিক কারণ যোগ রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী অফিসাররা।