সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে (Kerala Viral Video) কেন্দ্র করে চরম মানসিক চাপের মধ্যে এক ৪২ বছর বয়সী ব্যক্তির রহস্য মৃত্যু ঘটেছে, যা নিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে কেরলের কোঝিকোড়ে। পুলিশের দাবি, প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যা বলেই মনে করা হচ্ছে। মৃত ব্যক্তির নাম দীপক ইউ। তিনি পুথিয়ারা এলাকার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে কোঝিকোড়ের গোবিন্দপুরমে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন বলে খবর। পেশায় তিনি এক বস্ত্র কারখানার কর্মচারী।
ঘটনাটি কী?
আসলে রবিবার সকাল ৭টা নাগাদ দীপকের বাবা-মা তাঁকে ঘুম থেকে তুলতে ঘরের দরজায় ধাক্কা মারেন। কিন্তু ভিতর থেকে কোনও রকম সাড়া মেলেনি। সেই কারণে প্রতিবেশীদের সাহায্যে দরজা ভেঙে ঘরে ঢোকেন তাঁরা। সেখানেই সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান দীপককে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
তাঁর পরিবারের সদস্যরা দাবি করে, শুক্রবার কাজের সূত্রে দীপক কান্নুর গিয়েছিলেন। তবে সেদিন একটি বাসে যাত্রাকালীন এক মহিলা সহযাত্রী তাঁর বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে একটি ভিডিও রেকর্ড করেছিলেন, আর সেই ভিডিও খুব দ্রুত সোশ্যাল মিডিয়া ভাইরাল হয়ে যায়। যদিও, ওই ব্যক্তির কোনওরকম খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না বলেই জানা যাচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওটি দীপকের নজরেও এসেছিল। পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, দীপক অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন এবং ঘটনার পর থেকেই তিনি মানসিক চাপের মধ্যে ভুগছিলেন।
A 42-year-old man, against whom a video alleging misbehaviour with a woman passenger on a bus had surfaced on social media, was found hanging dead at his residence on Sunday, police said.
The deceased was identified as Deepak U, a native of #Puthiyara, who was residing at… https://t.co/1yky0cy4ar pic.twitter.com/d4y5dTSO6E
— Hate Detector
(@HateDetectors) January 18, 2026
আরও পড়ুন: বেলডাঙা মামলা হাইকোর্টে পৌঁছতেই বড় নির্দেশ প্রধান বিচারপতির
এদিকে মেডিকেল কলেজ থানার পুলিশ এটিকে নিয়ে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে। প্রাথমিক তদন্তে আত্মহত্যার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে বলে খবর। কিন্তু শুধুমাত্র মৃত্যুর কারণ নয়য়, বরং ওই ভিডিও কীভাবে এবং কী পরিস্থিতিতে ছড়িয়ে পড়েছে তা নিয়েও বিস্তারিত তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় অভিযোগ মূলক কোনও অভিযোগমূলক পোস্ট করার আগে তা আদৌ যাচাই করার প্রয়োজন কিনা। যদিও তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে অভিযুক্ত বলে চিহ্নিত করাও যাচ্ছে না।
নেটিজেনরা দীপকের পাশেই দাঁড়িয়েছে। সবার অভিযোগ একটাই যে, ওই যুবতী রিলসের নেশায় নিজেকে ভাইরাল করার জন্য দীপকের সঙ্গে এমন করেছে। যার জেরে অপমানে আত্মঘাতী হয়েছে নিরীহ দীপক।
(@HateDetectors)