প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: রোজভ্যালি কাণ্ড নিয়ে বিতর্ক যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না। বেআইনি অর্থলগ্নি সংস্থা রোজভ্যালির সম্পত্তি নয়ছয়ের অভিযোগ নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের পদক্ষেপে বিড়ম্বনায় পড়েছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। অভিযোগ উঠেছিল প্রায় ২০ থেকে ৩০ হাজার কোটি টাকা নয়ছয়ের। আর এবার সেই সম্পত্তি নয়ছয় নিয়ে SFIO-কে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court)।
SFIO-কে ফরেনসিক অডিটের নির্দেশ
গত সোমবার, ফরেনসিক অডিট প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে ইডি ধাক্কা খাওয়ার পরে মঙ্গলবার, রোজভ্যালির বাজেয়াপ্ত হওয়া প্রায় ৩০ হাজার কোটির সম্পত্তি নয়ছয় নিয়ে SFIO ওরফে সিরিয়াস ফ্রড ইনভেস্টিগেশন অফিসকে তদন্ত শুরুর নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজের ডিভিশন বেঞ্চ। জানানো হয়েছে, আগামী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে হবে আদালতে। সেই রির্পোটে কোনও অনিয়মের ইঙ্গিত পেলে SFIO ফরেনসিক অডিট শুরু করবে বলেই জানানো হয়েছে।
কেন্দ্রকে দ্রুত অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ
গতকাল অর্থাৎ মঙ্গলবার, কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ ও বিচারপতি উদয় কুমারের ডিভিশন বেঞ্চের বক্তব্য, যেহেতু এর আগে SFIO আদালতকে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমতি পেলে তাদের এই ফরেনসিক অডিট করতে বাধা নেই । তাই হাইকোর্টের নির্দেশ, বিধি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রককে দ্রুত অনুমোদন দিতে হবে। এদিন আদালতে গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে রোজভ্যালির আমানতকারীদের টাকা ফেরানো দিলীপ শেঠ কমিটি বন্ধ করে দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে ডিভিশন বেঞ্চ। আদালতের একটাই প্রশ্ন, পর পর সব অর্ডারে যেখানে লেখা হচ্ছে যে আমানতকারীদের টাকা ফেরানোর ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই কমিটির। সেখানে কেন ভুক্তভোগীরা এখনও টাকা পাচ্ছেন না।
আরও পড়ুন: পর্ষদে না দিলেও! বিশেষ ক্ষমতাবলে ছুটি ঘোষণা প্রাইমারি স্কুলগুলিতে
প্রসঙ্গত, রোজভ্যালির টাকা ফেরানোর দায়িত্বে থাকা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি দিলীপ শেঠ কমিটির বিরুদ্ধে ওঠা আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। পাশাপাশি রোজভ্যালির সম্পত্তির হিসেবনিকাশেও অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছিল। তাই হাইকোর্ট ফরেনসিক অডিটের নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু হাইকোর্টের ফরেন্সিক অডিটকে অবৈধ ঘোষণার দাবি সহ বেশ কয়েকটি আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে স্পেশাল লিভ পিটিশন দাখিল করেছিল ইডি। যদিও সেই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরা স্পষ্ট জানিয়ে দেয় যে, ইডির আবেদন একেবারেই সন্তোষজনক নয়। খারিজ করে দেওয়া হয় তাদের পিটিশন।