সহেলি মিত্র, কলকাতা: এবারের বাজেটে পশ্চিমবঙ্গ সরকার (Government of West Bengal) লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টাকা ১০০০ থেকে বাড়িয়ে ১৫০০ করেছে। আর যুব সাথী প্রকল্পেরও ঘোষণা করেছে। আর এরই মধ্যে বাংলার ভূমিহীন চাষীদের জন্যও রইল দারুণ সুখবর। এমনিতেই চলতি বছরের রাজ্য বাজেটে ভূমিহীন কৃষি শ্রমিকদের বার্ষিক ৪,০০০ টাকা সহায়তা প্রদান থেকে শুরু করে ১০০ দিনের কর্ম প্রকল্পের জন্য কর্মদিবস বৃদ্ধি পর্যন্ত, একাধিক ঘোষণা করে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। অন্তর্বর্তী বাজেটে ঘোষণা করা হয়, যাঁদের জমি নেই, অন্যের জমিতে চাষ করেন অর্থাৎ ভূমিহীন চাষি তাঁদের জন্য বার্ষিক চার হাজার টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে। কবে থেকে মিলবে সেই টাকা? এই বিষয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়।
ভূমিহীন কৃষকদের জন্য বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর
রাজ্য বাজেটে বলা হয়েছে যে ভূমিহীন কৃষি শ্রমিকরা বার্ষিক ৪,০০০ টাকা করে সহায়তা পাবেন, যা ২০০০ টাকার দুটি কিস্তিতে প্রদান করা হবে – রবি মরশুমে ১ কিস্তি এবং খরিফ মরশুমে অন্যটি। জানা গিয়েছে, এপ্রিল মাস থেকেই মিলবে টাকা। নবান্ন থেকে এমনই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়। দুয়ারে সরকারের ধাঁচে প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রগুলিতে ক্যাম্প বসানো হবে।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানান, “প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে একটি করে ক্যাম্প করা হবে। দুয়ারে সরকারের মতো। সেখানে আবেদন করতে হবে। অনুদানের পাশাপাশি সেচের যে চার্জ চাষিরা দিতেন এবার থেকে তা মকুব করা হল।” সেখানে গিয়ে আবেদন করতে হবে চাষীদের। সমস্যার সমাধান হবে।
বাজেটে বড় ঘোষণা
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের ইতিমধ্যেই কৃষক বন্ধু প্রকল্প রয়েছে। যাদের ১ একরের বেশি জমি আছে তারা ১০,০০০ টাকা পায়, অন্যদিকে ছোট জমি আছে এমন কৃষকরা ৪,০০০ টাকা পায়। অনেক কৃষি শ্রমিক অন্য কারো মালিকানাধীন জমিতে কাজ করে; তারাও এখন ৪,০০০ টাকা সহায়তা পাবে।”
আরও পড়ুনঃ মাত্র ৩ ঘন্টা ৫০ মিনিটে দিল্লি থেকে বারাণসী! রেল নিয়ে ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত
রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, “যেসব যোগ্য শ্রমিকের কৃষিজমির মালিকানা নেই এবং তাই কৃষক বন্ধু (নতুন) প্রকল্পের জন্য যোগ্য নন, তাদের জন্য একটি ডাটাবেস তৈরি করা হবে। অনেক কৃষক জলের জন্য পাম্পের উপর নির্ভরশীল। তারা সরকারকে প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা দিতেন। যদি তারা বেসরকারি সংস্থাগুলির সাহায্য নিতেন, তাহলে খরচ ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যেত। তারা শোষিত হতেন। এখন থেকে, এই পরিষেবা তাদের জন্য বিনামূল্যে।”