সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: নাবালিকাকে ধর্ষণের মতো গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কমিয়ে এবার ১২ বছর করার নির্দেশ দিয়েছে বোম্বে হাইকোর্ট (Bombay High Court)। হ্যাঁ, আদালত দোষী সাব্যস্তের রায় বহাল রাখার জন্য সাজা হ্রাসের ক্ষেত্রে তাঁর অপরাধের সময়ের বয়স, দীর্ঘ কারাবাস আর জেলে সংশোধনমূলক কার্যকলাপে অংশগ্রহণকেই এবার গুরুত্ব দিল বলে খবর।
কী বলল হাইকোর্ট?
এদিন বিচারপতি সারাং কোটওয়াল ও বিচারপতি সন্দেশ পাটিলের ডিভিশন বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে, অপরাধের সময় অভিযুক্তের বয়স ছিল মাত্র ২০ বছর। আর তাঁর বিরুদ্ধে আগে থেকে কোনওরকম অপরাধমূলক রেকর্ড ছিল না। এমনকি ডিসেম্বর ২০১৬ থেকেই সে ধারাবাহিকভাবে জেলে রয়েছে। আর করোনা মহামারীর সময়ও সে মুক্তি পায়নি। সমস্ত কিছু বিবেচনা করেই সাজা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে আদালত বিশেষভাবে উল্লেখ করেছে, জেলে থাকাকালীন অভিযুক্ত বিভিন্ন শিক্ষামূলক আর সংশোধনমূলক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিল। যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- প্রবন্ধ প্রতিযোগিতা, শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং মহাত্মা গান্ধীর ভাবনা এবং দর্শন নিয়ে অধ্যয়নমূলক কর্মসূচি। আর এই কার্যকলাপগুলি তাঁর মানসিক পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মত প্রকাশ করছে আদালত।
এদিন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, অপরাধের গুরুত্ব বেশি হলেও সংশোধন ও সম্ভাবনাকে কোনওভাবেই অস্বীকার করা যায় না। ১২ বছরের সাজা ন্যায়বিচারের উদ্দেশ্য পূরণে একেবারে যথেষ্ট। এছাড়াও আদালত নির্দেশ দিয়েছে, ইতিমধ্যেই জেলে কাটানো সময় চূড়ান্ত সাজা থেকে সমন্বয় করা হবে।
আরও পড়ুন: এই ডকুমেন্ট না থাকলে মিলবে না যুবসাথীর ১৫০০ টাকা! জানুন আবেদন প্রক্রিয়া
ঘটনাটি কী?
প্রসঙ্গত জানিয়ে রাখি, নির্যাতিতার অভিযোগ অনুযায়ী, ৯ ডিসেম্বর ২০১৬ সালে ৫ বছর বয়সী এক শিশু জল আনতে প্রতিবেশীর বাড়িতে গিয়েছিল। আর সেখানেই অভিযুক্ত তাঁকে যৌন নির্যাতন করেছিল। এরপর শিশুটি সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মাকে বিষয়টি জানায়। পরে পরিবার পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করে। তারপর ট্রায়াল কোর্টে শিশুটি ৮ বছর বয়সে সাক্ষ্য দিয়েছিল। হাইকোর্ট জানায়, তাঁর বয়ান স্পষ্ট এবং সামঞ্জস্যপূর্ণই ছিল। আর কোনও রকম প্রশিক্ষণ বা প্রলোভনের লক্ষণও পাওয়া যায়নি। তাই দোষী সাব্যস্তের রায় বহাল রাখা হয়।