শত শত পাক সেনার মৃত্যুর কারণ এই দুই মহিলা ফিদায়েঁ, ছবি প্রকাশ করল বালোচ বিদ্রোহীরা

Balochistan Attack

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: পাকিস্তানের অশান্ত বালুচিস্তান প্রদেশে ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। শনিবার একযোগে একাধিক জেলায় বড়সড় হামলা চালিয়েছে বালুচ লিবারেশন আর্মি (Balochistan Attack)। এই হামলাকে গত ২০ বছরের মধ্যে সবথেকে বড় সশস্ত্র অভিযান বলেই মনে করা হচ্ছে। ‘হেরোফ ২.০’ নামের এই অভিযানের দায় স্বীকার করেছে বিএলএ। এমনকি সংগঠনের দাবি, এখনও পুরোপুরি এই হামলা শেষ হয়নি। পাকিস্তানের সেনা এবং নিরাপত্তা বাহিনীর উপর একের পর হামলায় দিশেহারা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলেই দাবি করছে বালুচ বিদ্রোহীরা।

এক যোগে একাধিক জেলায় হামলা

বিএলএ-র দাবি অনুযায়ী, মাস্তুঙ্গ, পাসনি, নোশকি, কোয়েটা সহ মোট ১৪টি শহরের ৪৮টি এলাকায় একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। নিশানায় ছিল পাকিস্তান সেনা, পুলিশ এবং ফ্রন্টিয়ার কর্পস। সংগঠনের মুখপাত্র, জিয়ান্দ বালুচ এক বিবৃতিতে স্পষ্ট দাবি করেন, ইসলামাবাদের সামরিক উপস্থিতিতে একাধিক এলাকা পিছু হটতে বাধ্য করা হয়েছে।

এদিকে বিএলএ-র তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে, সংঘর্ষে ২০০-র বেশি পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছে। এমনকি ১৭ জন সেনাকে জীবিত অবস্থায় আটক করা হয়েছে। যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। অন্যদিকে বালুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি জানিয়েছেন, এই ঘটনায় ১৭ জন নিরাপত্তা কর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

নারী আত্মঘাতী হামলায় নতুন মাত্রা

প্রসঙ্গত, এই অভিযানের সবথেকে চাঞ্চল্যকর দিক ছিল নারী আত্মঘাতী হামলাকারীদের ব্যবহার। কারণ, বিএলএ স্বীকার করেছে, আসিফা মেঙ্গাল নামের এক নারী নোশকিতে আইএসআই অফিস লক্ষ্য করে আইইডি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। আর তিনি ২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে বিএলএ-র মাজিদ ব্রিগেডে যোগ দিয়েছেন বলেই দাবি করছে সংগঠন। এছাড়াও হাওয়া বালুচ নামে আর এক নারী হামলাকারীদের ভিডিও ও শেষবার্তা প্রকাশ করেছে। বিএলএ-র প্রচার চ্যানেল দাবি করা হয়েছে, তিনি গ্বাদর ফ্রন্টে পুরুষ জঙ্গিদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছেন। বালোচ বিদ্রোহীদের তরফে এই দুই মহিলা ফিদায়েঁর ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: গ্র্যামির মঞ্চে বিরাট সম্মানে ভূষিত দলাই লামা, কোন বিভাগে পেলেন পুরস্কার?

তবে দুই পক্ষ পাল্টা দাবি জানাচ্ছে। কারণ, বিএলএ-র বক্তব্য অনুযায়ী, ২০০-র বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে এবং ১৭ জনকে আটক করা হয়েছে। এমনকি তাদের মধ্যে নিজেদের ১৮ জন যোদ্ধা নিহত হয়। আর পাকিস্তান সেনাদের দাবি অনুযায়ী, শনিবারের হামলায় ৯২ জন জঙ্গি নিহত হয় এবং শুক্রবার পর্যন্ত নিহত জঙ্গির সংখ্যা ছিল ৪২ জন।

Leave a Comment