বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: স্টেশনের (Indian Railways) পাশেই পড়ে রয়েছে বিশালাকার ময়লা-আবর্জনার স্তুপ। গন্ধে টেকা দায় স্থানীয়দের পক্ষে। তাই নাকে রুমাল চেপে পৌঁছতে হয় স্টেশনে। তবুও স্টেশন লাগোয়া আবর্জনার গন্ধ নাক থেকে যেন সরেই না। এই প্রবণতা কমাতে অর্থাৎ শিয়ালদহ (Sealdah) ডিভিশনের একাধিক স্টেশনের নামের পাশ থেকে নোংরা তকমা সরাতে গত ফেব্রুয়ারির 15 তারিখ থেকে সাফাই অভিযান শুরু করেছিল রেল। সেই অভিযানে শিয়ালদহ শাখার সাতটি স্টেশন মিলিয়ে মোট 300 টন বর্জ্য পদার্থ উদ্ধার করা গিয়েছে। এর ফলে 50 হাজার বর্গমিটার জমি উদ্ধার করতে পেরেছে রেল।
পরিবেশের কথা চিন্তা করেই এমন পদক্ষেপ রেলের
রেল সূত্রে খবর, শিয়ালদহ শাখার বাঘা যতীন, সন্তোষপুর, পার্ক সার্কাস, বিধান নগর রোড এবং সোদপুর স্টেশনের পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে এতদিন আবর্জনা স্তূপ উপেক্ষা করে যাতায়াত করতে হয়েছে যাত্রীদের। পচা বর্জ্য পদার্থের গন্ধে যাত্রীদের যেমন ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে তেমনই স্টেশন গুলির পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে হেঁটে যাওয়া পথ চলতি মানুষও নাক চেপেই যাতায়াত করছিলেন এই কদিন। মূলত সে কারণেই, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ থেকে রোগের সংক্রমণ ঠেকাতে এবং পরিবেশ রক্ষা করতে সাফাই অভিযান শুরু করে ইস্টার্ন রেলওয়ে।
জানা গিয়েছে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বা বাজার লাগোয়া স্টেশন গুলির পাশে আবর্জনার স্তুপ উদ্বেগ বাড়াচ্ছিল রেল আধিকারিকদেরও। সে কারণেই স্টেশনগুলির পাশে থাকা আবর্জনা থেকে যাতে পরিবেশ দূষণ বৃদ্ধি না পায় এবং অগ্নিকাণ্ডের মতো ঝুঁকি কমে সে কারণেই শিয়ালদহ ডিভিশনের উল্লেখিত স্টেশন গুলিতে সাফাই অভিযান চালায় রেল।
অবশ্যই পড়ুন: সাধ্যের মধ্যেই হতে পারে ভারতের প্রথম বুলেট ট্রেনের ভাড়া, কত? দেখুন রিপোর্ট
উদ্ধার হওয়া জমিতে বিশেষ পরিকল্পনা রেলের
রেল সূত্রে যা খবর, শিয়ালদহ ডিভিশনের বিধাননগর রোড, পার্ক সার্কাস, সন্তোষপুর, সোদপুর সহ 7টি স্টেশনে সাফাই অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকৃত 50 হাজার বর্গমিটার জমিতে গাছ লাগিয়ে বাগান তৈরির পরিকল্পনা করছে রেল। রেল আধিকারিকদের একাংশের দাবি, মূলত যাত্রীদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে পরিবেশ দূষণ কমিয়ে শিয়ালদহ থেকে সন্তোষপুর অর্থাৎ প্রতিটি স্টেশনের পাশে উদ্ধারকৃত জমিতে ফুলের গাছ সহ অন্যান্য রকমারি গাছ লাগিয়ে নতুন করে বাগান তৈরি করা হবে। আর এর ফলে রেল যাত্রীদেরই সুবিধা হবে। তবে রেল আধিকারিকরা বলছেন, রেল নিজে দায়িত্ব নিয়ে যতই স্টেশন সংলগ্ন এলাকাগুলি পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করুক যাত্রীরা সচেতন না হলে কোনও লাভই নেই।