শুনানির নোটিস পেলেন মুর্শিদাবাদের এক BLO

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া বা এসআইআর কর্মসূচির পুঙ্খানুপুঙ্খ কাজ করে চলেছে বুথ লেভেল অফিসারেরা। সাধারণ মানুষের মধ্যে কোনো SIR নিয়ে কোনো অসুবিধা হলে তাঁরা এগিয়ে আসছেন। ফর্ম দেওয়া থেকে শুরু করে শুনানিপর্বে জিজ্ঞাসাবাদ সবটাই দেখছেন তাঁরা। এমতাবস্থায় ঘটল এক আজব ঘটনা। ভোটার তালিকায় তথ্যগত অসঙ্গতি থাকায় কমিশনের নির্দেশে এবার SIR এর নোটিস পেল মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) এক BLO।

SIR এর নোটিস BLO-কে

রিপোর্ট মোতাবেক, মুর্শিদাবাদের BLO আবু ওবায়দা বিন জাররাহ পেশায় শিক্ষক। সে শমসেরগঞ্জ ব্লকের চাচন্ড গ্রাম পঞ্চায়েতের ২১১ নম্বর বুথের ভোটার। সেখানকারই এক সরকারি বিদ্যালয়ে তিনি শিক্ষকতা করেন। বিগত কয়েকদিন ধরেই তিনি বিভিন্ন ভোটারকে SIR এর শুনানির নোটিস দিয়ে আসছেন, কিন্তু গতকাল সকালে ঘটল এক আজব ঘটনা। তিনি যখন কেন্দ্রে বসে এসআইআরের তথ্য যাচাইয়ের কাজ করছেন, ঠিক সেই সময়েই বিডিও অফিস থেকে তাঁর নামেই শুনানির নোটিস জারি করা হয়। আচমকা এই নোটিস পাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন ওই বিএলও।

আরও পড়ুনঃ সংক্রান্তিতে কাঁপাবে শীত, শৈত্যপ্রবাহ দক্ষিণবঙ্গের ৭ জেলায়, আজকের আবহাওয়া

ক্ষুব্ধ BLO

শিক্ষক তথা BLO আবু ওবায়দা বিন জাররাহ জানান, “বিএলও হিসাবে দায়িত্ব পাওয়ার আগেই সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি আমি জমা দিয়েছি। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় আমার নাম রয়েছে। ২০২৫ সালের তালিকাতেও নাম আছে। সমস্ত প্রমাণ দেওয়ার পরেও কেন আমাকে শুনানিতে ডাকা হল, কিছুতেই বোধগম্য হচ্ছে না। কিন্তু আমি নিয়ম মেনে বিডিও অফিসে হাজিরা দেব।” তবে তিনি ছাড়াও ওই একই বুথে প্রায় ৩০০ জনের কাছে শুনানির নোটিস গিয়েছে। বাদ যাননি স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য ওসিকুল আলমও। এদিকে সব নথি থাকা সত্ত্বেও বিএলও বা জনপ্রতিনিধিদের এই ভাবে তলব করা হচ্ছে দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

আরও পড়ুন: রোজভ্যালি মামলায় এবার বিরাট নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রসঙ্গত SIR এর নোটিস যে শুধু মুর্শিদাবাদের BLO আবু ওবায়দা বিন জাররাহ পেয়েছে তা নয়, এর সঙ্গে বর্ধমানের কাটোয়ার ১৬৫ নম্বর বুথের বিএলও দেবশঙ্কর চট্টোপাধ্যায়ও পেলেন BLO নোটিস। ভোটার তালিকায় তথ্যগত অসঙ্গতি থাকায় কমিশনের নির্দেশ মেনে খোদ নিজেকে এবং নিজের স্ত্রীকেই শুনানির নোটিশ ধরালেন এই সরকারি কর্মী। জানা গিয়েছে, দেবশঙ্করবাবুর বাবার নাম পুলকেন্দ্র চট্টোপাধ্যায়৷ কিন্তু ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি পদবির বানান ভুল রয়েছে৷ এই কারণেই তাঁকে কমিশন শুনানির নোটিস পাঠায়। অন্যদিকে স্ত্রীর বাড়ি নদিয়া জেলার নাকাশিপাড়ায়। তাঁর বাবার নাম অনিল চট্টোপাধ্যায়৷ কিন্তু তাঁর ও বাবার বয়সের পার্থক্য ৫০ বছর দেখাচ্ছে। তাই এই নোটিস।

Leave a Comment