শুভেন্দুর আবেদনে মিলল সায়, চা বাগানের শ্রমিকদের জন্য বিরাট সুখবর দিল নির্বাচন কমিশন

Suvendu Adhikari

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: উত্তরবঙ্গের চা বাগান এবং সিঙ্কোনা বাগান এলাকার বাসিন্দাদের জন্য এবার বিরাট স্বস্তির খবর। শুভেন্দু অধিকারীর (Suvendu Adhikari) অনুরোধে সারা দিয়ে ভোটার তালিকাভুক্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের জট কাটানোর জন্য এবার বিরাট সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। হ্যাঁ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় পরিচয় ও বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে এবার চা বাগান ও সিঙ্কোনা বাগানের কর্মসংস্থানের নথি বৈধ বলে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায়। যেমন দার্জিলিং, কালিম্পং, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ইত্যাদি। এমনকি এতদিন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবে বহু চা বাগানের শ্রমিক, আদিবাসী ও বনাঞ্চলের বাসিন্দারা ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারছিলেন না। তবে নতুন সিদ্ধান্তে সেই সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।

অবসান হল দীর্ঘদিনের বঞ্চনার

উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ চা বাগানে এলাকায় বসবাসকারীরা দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, আধার, বাসস্থানের দলিল বা অন্যান্য সরকারের নথির অভাবে তারা  ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। তবে কমিশনের এই অনুমোদনের ফলে হাজার হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকায় যুক্ত হওয়ার পথ খুলে গেল বলেই মত প্রকাশ করছে বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে এই সিদ্ধান্তকে বড় সাফল্য বলে দাবি করছে রাজ্যের বিরোধী দল। বিজেপির বক্তব্য, রাজ্য সরকারের উদাসীনতার কারণেই এতদিন চা বাগানে শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হচ্ছিল। আর নতুন নিয়মে সেই অবহেলা অনেকটাই অবসান ঘটবে। বিজেপির তরফ থেকে উত্তরবঙ্গের যোগ্য ভোটারদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, তারা যেন নিজেদের চা বাগান বা সিঙ্কোনা বাগানের কর্মসংস্থানের নথি ব্যবহার করে দ্রুত ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করে নেয়।

শুভেন্দু অধিকারীর প্রতিক্রিয়া

এদিকে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই সিদ্ধান্তকে বড় জয় বলেই অভিহিত করেছেন। তাঁর বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের জনজাতি, চা বাগানের শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরেই নথিগত সমস্যার কারণে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন। নির্বাচন কমিশনের সেই সিদ্ধান্তে তাদের বিপাক দূর হল। এমনকি এক্স হ্যান্ডেলে দেওয়া এক পোস্টে তিনি যোগ্য ভোটারদের আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “চা বাগান বা সিঙ্কোনা বাগানে কর্মসংস্থানের নথি ব্যবহার করে ভোটার তালিকায় নাম নথিভুক্ত করুন। আপনাদের ভোট আমাদের প্রকৃত শক্তি।”

আরও পড়ুন: হজ ২০২৬ নিয়ে বিরাট সিদ্ধান্ত নিল সৌদি আরব! উপকৃত হবে ভারতীয় মুসলিমরাও

প্রসঙ্গত, চলতি বছরের ৬ জানুয়ারি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছে শুভেন্দু অধিকারী একটি চিঠি পাঠিয়েছিলেন। আর সেই চিঠিতে পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর প্রক্রিয়ায় চা বাগানের শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের নথিকে পরিচয়ের প্রমাণপত্র হিসেবে তুলে ধরার আবেদন জানিয়েছিলেন। আর চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেছিলেন, প্রতিনিধিত্ব আইন ১৯৫০ অনুযায়ী সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ককে ভোটাধিকার কার্যকর করতে হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও নির্ভুল ভোটারদের তালিকা অপরিহার্য। আর সেই কারণেই এবার কমিশন বড়সড় সিদ্ধান্তের পথে হেঁটেছে।

Leave a Comment