প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: কিছুদিন আগেই কলকাতায় আই-প্যাকের দফতর ও তৃণমূলের আইটি প্রধান তথা রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থার ডিরেক্টর প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির তল্লাশিকে ঘিরে রীতিমত উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। আর সেই ঘটনার জল গড়িয়েছে আদালতে। আজ, সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) সকাল ১১টা নাগাদ ইডি মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু শেষ মুহূর্তে পিছিয়ে গেল মামলা। জানা গিয়েছে এদিন রাজ্যের হলফনামার জবাব দিতে সময় চায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। আর সেই কারণে এই সিদ্ধান্ত। তবে কবে আবার এই মামলার শুনানি হবে, তার দিনও আজ জানিয়ে দেওয়া হল আদালতের তরফে।
এই কারণে পিছল আইপ্যাক মামলা
রিপোর্ট মোতাবেক, গতকাল অর্থাৎ সোমবার সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দেয় রাজ্য সরকার। এরপর আজ, মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে ইডির দায়ের করা মামলার শুনানি শুরু হয়। এদিন ইডির তরফে কেন্দ্রের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আবেদন করেন, রাজ্যের দেওয়া হলফনামা খতিয়ে দেখার সময় দেওয়া হোক। শুধু তাই নয় এই ঘটনায় ইডি-ও পাল্টা হলফনামা দিতে চায় বলে শুনানির দিন পিছিয়ে দেওয়ার আবেদন করা হয় আদালতে। সেই কারণে ইডির আবেদন নিয়ে রাজ্য মত জানতে চায় বিচারপতি মিশ্রের বেঞ্চ। আর তাতেই সম্মতি দেয় রাজ্য।
কবে হবে পরবর্তী শুনানি?
রাজ্য সরকার আইপ্যাক মামলায় ইডির আবেদনে সম্মতি দেওয়ার পরই সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্র এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ মামলা পিছিয়ে দেওয়ার কথা জানায়। জানা গিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে। অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা দিয়ে রাজ্যের তরফে ইডির মামলা খারিজের আবেদন করা হয়। রাজ্যের অভিযোগ, সুপ্রিম কোর্টে এই মামলা দায়ের করার কোনও মৌলিক অধিকার নেই ইডির। কেন আইপ্যাককে কোনও আগাম নোটিস দেওয়া হয়নি, সে প্রশ্নও তোলা হয়। যদিও এই মামলার পরবর্তী কী হতে চলেছে তা একমাত্র আগামী শুনানি ছাড়া বোঝা মুশকিল।
আরও পড়ুন: AI দিয়ে কি ভোটার তালিকায় ছাঁটাই! রহস্যময়ীর নাম নিলেন মমতা, কে এই সীমা খান্না?
প্রসঙ্গত, গত ৮ জানুয়ারি বেআইনি কয়লা পাচার সংক্রান্ত একটি মামলার ক্ষেত্রে কলকাতার সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে আইপ্যাকের দফতরে এবং লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়িতে জোড়া অভিযান চালিয়েছিল ইডি। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং রাজ্য পুলিশ তদন্তে বাধা দেয়, আর সেই অভিযোগ তুলে এদিন ইডি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। কিন্তু ৯ জানুয়ারি ওই আবেদনের শুনানি আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত মুলতুবি করে দিয়েছিলেন বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ। তার পরেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি। এখন সেই মামলার শুনানির দিনও পিছিয়ে গেল।