প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সকাল থেকেই বেশ সাজো সাজো রব চারিদিকে, এইমুহুর্তে খবরের শিরোনামে রয়েছে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙ্গা। কারণ আজই অনুষ্ঠিত হতে চলেছে সদ্য তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) উদ্যোগে মসজিদ শিলান্যাস পর্ব। তাইতো রাজনৈতিক শিবিরেও বেশ টানটান উত্তেজনা। যদিও গতকাল রাত থেকেই মরাদিঘি মোড়ের বিশাল মাঠে চলছে জোর প্রস্তুতি, তার উপর রয়েছে আদালতের নির্দেশ। তাই সব কিছু মেনে এবং NH-12 এর নজরদারিতে ময়দানে নেমে পড়েছে পুলিশ–প্রশাসন।
২০,০০০ প্যাকেট খাবার তৈরির প্রস্তুতি
রিপোর্ট অনুযায়ী, NH-12-র পাশেই বিশাল অনুষ্ঠানস্থলে বড় রাজনৈতিক সমাবেশের আদলে প্রস্তুতি চলছে। খাবারের জন্য শাহী বিরিয়ানির আয়োজন করা হয়েছে। সেই কারণে বিরিয়ানি রান্নার জন্য মুর্শিদাবাদের সাতটি কেটারিং সংস্থাকে চুক্তিবদ্ধ করা হয়েছে। বিধায়কের ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, অতিথিদের জন্য প্রায় ৪০,০০০ এবং স্থানীয়দের জন্য ২০,০০০ প্যাকেট খাবার তৈরি হচ্ছে। অনুমান করা হচ্ছে খাবারের খরচই ৩০ লক্ষ টাকার বেশি হবে। এদিকে অনুষ্ঠানের আয়োজকদের মধ্যেই নাকি ৩০০০ স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন, যার মধ্যে ২০০০ জন শুক্রবার সকাল থেকেই জনসমাগম, প্রবেশপথ নিয়ন্ত্রণ ও জাতীয় সড়ক-১২-তে যানজট সামলাচ্ছেন। অনুষ্ঠানস্থলের জন্য মোট বাজেট প্রায় ৬০-৭০ লক্ষ টাকায় পৌঁছবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
টহল দিচ্ছে গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা
জানা গিয়েছে, ধানক্ষেতের মাঝখানে নির্মিত মঞ্চটি ১৫০ ফুট লম্বা ও ৮০ ফুট চওড়া করা হয়েছে, প্রায় ৪০০ জন অতিথির বসার ব্যবস্থা রয়েছে সেখানে। যার আনুমানিক খরচ ১০ লক্ষ টাকা। গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত অনুষ্ঠান মঞ্চ বাঁধার কাজ চলেছিল। এইমুহুর্তে কুইক রেসপন্স টিম, র্যাফ, ভিলেজ পুলিশ থেকে মহিলা কনস্টেবল সবাই নজরদারিতে রয়েছে। মাঠের চারিপাশে অনবরত টহল দিচ্ছে গোয়েন্দা বিভাগের আধিকারিকরা। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, দেশের নানা জায়গা থেকে ধর্মগুরুদের আগমন শুরু হয়ে গিয়েছে। অনুষ্ঠান সূচি অনুযায়ী সকাল ৮টায় অতিথি এবং সৌদি আরবের দুই ক্কারীর বিশেষ কনভয়ে আগমন। সকাল ১০টায় কোরান তেলাওয়াত, দুপুর ১২টায় শিলান্যাসের মূল অনুষ্ঠান, দুপুর ২টোয় অতিথিদের খাওয়াদাওয়া এবং বিকেল ৪টার মধ্যে মাঠ ফাঁকা করা।
আরও পড়ুন: নবান্ন উৎসবের চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে অশান্তি! বীরভূমে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বলি তৃণমূল কর্মী
জেলা পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বেলডাঙা ও রানিনগর থানার আওতায় প্রায় ৩০০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হবে। তাঁর কথায়, “NH-12 এ যান চলাচল স্বাভাবিক রাখাই প্রধান উদ্বেগ। তাইতো সদর দফতর থেকে অতিরিক্ত বাহিনী এসেছে, একাধিক ট্রাফিক ডাইভারশন পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।” এমনকি অনুষ্ঠানের কর্মকর্তারাও স্বীকার করেছেন যে, বিশাল জনসমাগমের ফলে NH-12-এ যানজট সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সকালের জনসমাগম দেখে ট্রাফিক ডাইভারশন কার্যকর করা হতে পারে। হুমায়ুনের সঙ্গে নানা বিষয় নিয়ে কথা হচ্ছে পুলিশের। হুমায়ুনের কথায়, “পুলিশের সম্পূর্ণ সহযোগিতা পেয়েছি। লাখ তিনেক লোক তো হবেই।”