প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ED হামলার ছায়া ফের দেখা গেল সন্দেশখালিতে। তবে এবার কেন্দ্রীয় আধিকারিকদের ওপর নয় বরং রাজ্য পুলিশের উপর হামলা (Sandeshkhali Police Attacked) চালানোর অভিযোগ উঠল স্থানীয়দের বিরুদ্ধে। আহত হলেন এক পুলিশ আধিকারিক-সহ চার জন। ভাঙচুর করা হল পুলিশের গাড়িও। শুক্রবার রাতের এই ঘটনায় অভিযোগ উঠেছে ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার বাসিন্দা মুসা মোল্লা এবং তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে। কিন্তু কে এই মুসা মোল্লা?
অবৈধ জমির ব্যবসা ছিল মুসা মোল্লার!
রিপোর্ট মোতাবেক সন্দেশখালির তৃণমূলকর্মী বলে পরিচিত অভিযুক্ত মুসা মোল্লা। তাঁর বিরুদ্ধে শেখ শাহজাহানের মতোই অভিযোগ উঠেছিল। জানা গিয়েছে তিনিও নাকি অবৈধ ভাবে চাষের জমিতে নোনা জল ঢুকিয়ে দিয়ে ভেড়ি করে। জমি দখল নিয়ে মামলাও হয়। তখনই ওই জমির উপর ১৪৪ ধারা জারি করে আদালত। পুলিশের তরফে নোটিসও দেওয়া হয়। অভিযোগ সেই নোটিস দিনের পর দিন অগ্রাহ্য করছিলেন মুসা। তাই সেই কারণেই গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার সন্দেশখালিতে মুসাকে ধরতে যায় পুলিশ। কিন্তু সেখানেই মুসা তাঁর অনুগামীদের ফোন করে ডেকে এনে পুলিশের উপর হামলা চালান বলে অভিযোগ। ঘটনায় ১ অফিসার সহ ৩জন পুলিশ কর্মী আক্রান্ত হন।
ED আধিকারিকদের উপরেও হয়েছিল হামলা
যদিও সন্দেশখালিতে এই ঘটনা নতুন নয়। এর আগে শেখ শাহজাহানের বাড়িতে তদন্তে করার সময় ED আধিকারিকরা আক্রান্ত হয়েছিলেন সন্দেশখালিতে। সেই সময় হামলাকারীদের মধ্যে থেকে শেখ শাহজাহানের নামে ওঠে স্লোগান। মারতে মারতে এলাকাছাড়া করা হয় ED আধিকারিক এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের। ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীর সশস্ত্র জওয়ানদের গাড়ি। এবার সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল সন্দেশখালিতে। এবং একইভাবে আক্রান্ত হল রক্ষকরাই।
আরও পড়ুন: শীতের কারণে জানুয়ারিতে স্কুলে অতিরিক্ত ছুটির ঘোষণা রাজ্য সরকারের!
পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় ন’জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বয়ারমারি-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান এবং উপপ্রধানকে। অন্যদিকে আহত পুলিশকর্মীদের প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য ভর্তি করানো হয়েছিল মিনাখাঁ হাসপাতালে। পরে অবশ্য প্রত্যেককেই ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে ঘটনার তদন্ত এখনও চলছে। সন্দেশখালির তৃণমূল বিধায়ক সুকুমার মাহাতো এই প্রসঙ্গে বলেন, “দলের কেউ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকলে, উপযুক্ত পদক্ষেপ করা হবে।