সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য এবার বিরাট উদ্যোগ নিল কর্ণাটক সরকার (Government of Karnataka)। যেহেতু সামনে মাধ্যমিক পরীক্ষা, তাই এবার শিক্ষার্থীদের পারফরমেন্সকে উন্নত করার জন্য এবং গ্রামে উন্নত শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করার জন্য সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত ন’টা পর্যন্ত মোবাইল ফোন আর টেলিভিশন বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হ্যাঁ, একদম ঠিকই পড়েছেন। আর এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য ঢোল বাজিয়ে গ্রামে জনসাধারণের মধ্যে ঘোষণার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
কোথায় নেওয়া হল এই উদ্যোগ?
এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, কর্ণাটকের হাভেরির ৩৩টি গ্রাম পঞ্চায়েতের পঞ্চায়েত উন্নয়ন কর্মকর্তাদেরকে এ বিষয়ে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে, তারা যেন ঢোল বাজিয়ে জনসমক্ষে এই ঘোষণা করেন এবং গ্রামের প্রত্যেকটি মানুষের কাছে তা পৌঁছয়। স্পষ্ট জানানো হয়েছে, হাভেরি তালুকের গ্রাম পঞ্চায়েতগুলির আওতায় থাকা গ্রামগুলিতেই এই নিয়ম কার্যকর থাকবে। যেহেতু দশম শ্রেণী এবং অন্যান্য শ্রেণীর পরীক্ষার দিনক্ষণ ঘনিয়ে আসছে, তাই অনেক পরীক্ষার্থী ঘন্টার পর ঘন্টা মোবাইল বা টেলিভিশন নিয়ে ব্যস্ত থাকে। সেক্ষেত্রে তাদের পড়াশোনায় বিঘ্নতা ঘটতে পারে। সেই কারণেই এই উদ্যোগ।
সরকারের এই নিয়ম চালু করার মূল লক্ষ্য হল, শিশুদের শিক্ষা এবং দশম শ্রেণীর পরীক্ষার ফলাফল আরও উন্নত করা। তাই গ্রামগুলিতে সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত ন’টার মধ্যে মোবাইল ফোন এবং টেলিভিশন বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। এমনকি সন্ধ্যা সাতটায় সাইরেন বাজলে গ্রামে সন্ধ্যার রুটিন ভেঙে এই ডিভাইস মুক্ত সময় শুরু হবে। এ বিষয়ে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, নির্বাচিত সময়ে টেলিভিশন দেখার হিড়িক লেগে যায়। কারণ, এ সময় জনপ্রিয় সিরিয়াল ও টিভি শো-গুলি চলে। যেগুলি শিক্ষার্থীদের মনোযোগকে বিক্ষেপ ঘটায়।
আরও পড়ুন: মহারাষ্ট্রে গুলির লড়াইয়ে খতম ৭ কুখ্যাত মাওবাদী, মৃত্যু ১ সেনা জওয়ানেরও
বলাবাহুল্য, করোনা মহামারীর পর থেকে গেজেট আসক্তি তীব্র আকর ধারণ করার কারণে যথেষ্ট উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে পড়ুয়াদের মধ্যে। তবে তারপরও কর্ণাটকের হাভেরিতে সন্ধ্যা সাতটা থেকে রাত ন’টার মধ্যে টেলিভিশন আর মোবাইল ফোন বন্ধ রাখার প্রস্তাব পাস হয়েছে। এ বিষয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতে সভাপতি বিজয় মোহিতে বলেছেন, মহামারী চলাকালীন অনলাইন ক্লাসের জন্য স্মার্টফোনের ব্যাপক ব্যবহার বাড়ে। যার ফলে শিক্ষার্থীরা ডিজিটাল ডিভাইসের উপর আরও নির্ভরশীল হয়ে ওঠে। সেই কারণেই এবার নতুন নিয়ম চালু করা। এতে বোর্ডের পরীক্ষার ভালো ফলাফলা আসবে বলেই বিশ্বাস।