সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মহার্ঘ ভাতা (West Bengal DA Case) নিয়ে বাংলার সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি দেশের সর্বোচ্চ আদালত রাজ্য সরকারকে অবিলম্বে বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ মেটানোর নির্দেশ দিয়েছে। তবে আদালতের নির্দেশ কার্যকর করতে ফের এবার আন্দোলনকারীরা রাস্তায় নামল। সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকরের দাবি তুলে শহরজুড়ে ডাকা হল মিছিল। রবিবার সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে রানী রাসমণী অ্যাভিনিউ পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা এই মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। আর সেখানে বিজেপির সাংসদ সৌমিত্র খাঁও যোগদান করেন এবং শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হন।
এখনই মেটাতে হবে ডিএ
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের স্পষ্ট দাবি, অবিলম্বে বকেয়া মেটাতে হবে। তাঁদের বক্তব্য, “আমরা রাস্তায় নেমেছি। কারণ দেখতে পাচ্ছি যে, সরকার নানা রকম বিবৃতি দিয়ে বলছে যে, রিভিউয়ে যাবে। অর্থাৎ, সরকার বঞ্চনা মিটিয়ে দিতে চাইছে না। মালিক শ্রেণীদের কাছ থেকে কাটমানি খেয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের ১ শতাংশ ডিএ বাড়লে সাধারণ কর্মীদের বেতন বাড়ে মাত্র ৬ টাকা। এই সরকার শিক্ষিত সমাজকে টাকা দিতে চাইছে না। ডিএ-তে কাটমানি নেই বলেই তা দিচ্ছে না। কাঁচা টাকা দিয়েই সরকার ভোট কিনতে চাইছে। সরকারের যত প্রকল্প তা সরকারি কর্মচারীরাই বাস্তবায়ন করে। যদি সরকারি কর্মচারীদের সঙ্গে বঞ্চনা হয়, তাহলে সরকারেরই কপাল পুড়বে। কারণ, ১০ থেকে ১২ লক্ষ সরকারি কর্মচারীর পরিবারে অন্তত ছয়জন সদস্য রয়েছে। অর্থাৎ, সরকারি কর্মীদের মোট ৬০ থেকে ৭০ লক্ষ ভোট শাসকদলের কাছে যাচ্ছে। তাই কর্মচারীদের ফেলনা ভাবা উচিত না।”
এদিকে ভাস্কর ঘোষ বলেন, ধর্মঘট থেকে সরকার অচল করার সমস্ত রাস্তায় আমাদের সামনে খোলা রয়েছে। সরকার কোন পথে হাঁটবে তা নিজেরাই ঠিক করুক। পাশাপাশি বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ এদিন স্পষ্ট বলেন, “ভাস্করদা, এরা যে লড়াই করছে তাকে স্যালুট জানাতে এসেছি। দেশের সরকারি কর্মচারীদের এদের পাশে থাকাই উচিত। আমি ওদের লড়াইকে কুর্নিশ জানাই। ১১০০ দিন ধরেই বসেছিলাম। এটা বিরাট লড়াই।” এমনকি সৌমিত্র খাঁ প্রশ্ন তোলেন, “আমাদের ভোট যদি বিপক্ষে যায়, তাহলে সরকার গঠন করতে পারবে তো? লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাতা বাড়ানো হল। তাহলে ডিএ দিতে কী সমস্যা?”
তবে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আন্দোলন করছে সবই ঠিক আছে। ওদেরকে সম্মান করি। তবে সুপ্রিম কোর্ট যা নির্দেশ দিয়েছে, তার জন্য সময় আছে এখনও। ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। এখনই সেই সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে না। আন্দোলন করছেন বলেই যে বিরাট কিছু হচ্ছে এমনটা নয়। অপেক্ষা করতে হবে। অত তাড়াতাড়ি কিচ্ছু হবে না।” তবে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, সুপ্রিম কোর্ট খুব দ্রুত এই ডিএ মেটাতে বলেছে। অর্থাৎ, অবিলম্বে মেটাতে হবে। নাহলে সরকার অচল করে দিতেও পিছও হবে না তারা।
আরও পড়ুন: কংগ্রেস-হুমায়ুনের পর এবার মিমের দরজায় বামেরা! ওয়েসির সঙ্গে জোট বাঁধবে সিপিএম?
প্রসঙ্গত, গত ৫ ফেব্রুয়ারি দেশের সর্বোচ্চ আদালত রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দেয়, সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার অন্তত ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মেটাতে হবে এবং তার জন্য ৩১ মার্চ শেষ সময়। আর বাকি ৭৫ শতাংশের প্রথম কিস্তি মেটাতে হবে এই সময়ের মধ্যে। এর জন্য ৪ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকার জানাচ্ছে, অর্ডারের কপি হাতে পেয়েছে তারা। বিষয়টিকে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এখন দেখার, কবে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে এই বকেয়া ঢোকে।