সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে ভারতীয় রুপি! এবার ১০০-র গন্ডি টপকানোর পালা?

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: এবার কি তাহলে ১০০-র গণ্ডি টপকাবে ভারতীয় মুদ্রা (Indian Rupee)? ডলারের বিপরীতে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছল রুপি। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের (Middle East War) কারণে আগেই আশঙ্খা করা গিয়েছিল যে দিনের পর দিন আরও তলানিতে ঠেকবে দেশের মুদ্রা। সেই আশঙ্কায় সত্যি হল। শুক্রবার মার্কিন ডলারের (United States Dollar) বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার দাম দাঁড়াল একেবারে সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তর ৯৩.২৪ টাকায়। অর্থাৎ, এবার এক ডলার কিনতে গেলেই খোয়াতে হবে এত টাকা। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম। যার প্রভাব পড়ছে মুদ্রার উপরেই। তাহলে কী হবে দেশের অর্থনীতির?

সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তরে ভারতীয় রুপি

বলে দিই, গত ৪ মার্চ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ৭০ পয়সা বেড়ে ৯২ এর গণ্ডি ছাপিয়ে গিয়েছিল ভারতীয় মুদ্রা। এই সময় ডলারের বিপরীতে দাম দাঁড়ায় ৯২.১৭ টাকা। আর তার পাঁচ দিনের মধ্যে আরও ধস নামে রুপিতে। তখন সর্বকালের সর্বনিম্ন স্তর ৯২.৩০ টাকায় গিয়ে পৌঁছয়।। তবে এবার আরও পতন হয়ে একেবারে ৯৩ এর গণ্ডি টপকে গেল। আজ সকালে বাজার খুলতেই একেবারে রক্তক্ষরণ রুপিতে। এক ডলার কিনতে গেলেই এখন পড়েছে ৯৩.২৪ টাকা। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম যে হারে বাড়ছে তাতে সিংহভাগ চাপ পড়ছে মুদ্রার উপর। এই কারণেই গতকালের তুলনায় আরও ০.৪ শতাংশ তলানিতে রুপি।

এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখি, আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের গণ্ডি টপকেছে। যার ফলে তেল আমদানি করতেই মুদ্রার উপর চাপ পড়ছে। সেই কারণে ডলারের বিপরীতে দিনের পর দিন এই পতন। বেশ কিছু বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি ক্রুড অয়েলের দাম ১২০ ডলারে পৌঁছে যায়, তাহলে রুপি আরও তলানিতে ঠেকবে। এমনকি তা ৯৪ তে গিয়ে পৌঁছবে। আর আশঙ্কা করা হচ্ছে যে যুদ্ধ যদি এরকমভাবে চলতে থাকে, তাহলে ১০০-র গণ্ডি টপকাতে খুব বেশিদিন সময় লাগবে না। অন্যদিকে শেয়ার বাজারেও পড়ছে ভয়ংকর প্রভাব। কারণ, সেন্সেক্স ও নিফটি ৫০ অনেকটাই লসের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: ১১৩ বছরের রেকর্ড ব্রেক, প্রথম দিনেই ১০০ কোটির ক্লাব ছুঁল রণবীরের ‘ধুরন্ধর ২’

বলাবাহুল্য, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইজরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে দিনের পর দিন সংঘাত বেড়েই চলেছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর আমেরিকা এবং ইজরায়েলের উপর একের পর এক হামলা চালাচ্ছে তেহরান। যার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের যোগানে ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। এমনকি সম্প্রতি কাতারের রাস লাফানে মিসাইল অ্যাটাক করেছে ইরান। যার কারণে গ্যাস আমদানি সম্পূর্ণ বন্ধ। আর হরমুজ প্রণালীতে ভারতেরতেলবাহী জাহাজগুলি আটকে রয়েছে। এক কথায়, গোটা বিশ্ব এখন জ্বালানি সংকটে ভুগছে। সেই কারণেই বাড়তি টাকা খরচ করে জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে ভারতকে। যার কারণে ডলারের বিপরীতে মুদ্রার পতন।

Leave a Comment