সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: অভিযুক্তকে শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য হঠাৎ করে গ্রেফতার করা যাবে না। হ্যাঁ, এমনই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court on Police)। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যে সমস্ত অপরাধের সর্বোচ্চ সাজা সাত বছর পর্যন্ত, সেক্ষেত্রে গ্রেফতারের আগে পুলিশকে অবশ্যই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫(৩) ধারায় নোটিশ জারি করতে হবে।
আসলে সম্প্রতি বিচারপতি এম এম সুন্দরেশ এবং বিচারপতি এন কে সিংহের বেঞ্চ এই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গ্রেফতার করা পুলিশের বাধ্যতামূলক কর্তব্য নয়, বরং এটি আইনি ক্ষমতা, যা তদন্তের স্বার্থেই প্রয়োজনে ব্যবহার করা যাবে। তাই গ্রেফতারের আগে পুলিশ আধিকারিককে নিজেকেই প্রশ্ন করতে হবে যে গ্রেফতার আদৌ প্রয়োজন কিনা।
আরও পড়ুনঃ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশানুযায়ী DA মেটাবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার? মিলল উত্তর
কী বলল সুপ্রিম কোর্ট?
এদিন সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ৩৫(৩) ধারা অনুযায়ী নোটিশ জারি করা মূল নিয়ম হবে। অপরদিকে ৩৫(৬) ধারা অনুযায়ী গ্রেফতার হবে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ। অর্থাৎ, অভিযুক্ত নোটিশ পেয়ে তদন্ত সহযোগিতা না করলে বা পরিচয় গোপন করলে অথবা নোটিশের শর্ত ভঙ্গ করলে তখনই গ্রেফতারের পথে হাঁটতে পারবে পুলিশ।
শীর্ষ আদালত এদিন আরও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ করেছে। আদালতের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত চালাতে সবসময় গ্রেফতার জরুরী নয়। প্রমাণ সংগ্রহ, সাক্ষ্য যাচাই এই সমস্ত প্রক্রিয়ায় অভিযুক্তকে হেফাজতে না নিয়েও করা সম্ভব। তাই শুধুমাত্র জেরা করার সুবিধার জন্য কাউকে গ্রেফতার করা মানে আইনি অপব্যবহার। আদালত জানিয়েছে, গ্রেফতারকে সাবজেক্টিভ কনভেনিয়েন্স হিসেবে নয়, বরং অব্জেক্টিভে নেসেসিটি হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
আরও পড়ুন: ঠান্ডা বাড়ছে কলকাতায়, বিদায় বেলায় ইউটার্ন নিচ্ছে শীত? আগামীকালের আবহাওয়া
এদিকে রায়ে সুপ্রিম কোর্ট মনে করিয়ে দিয়েছে যে, ব্যক্তি স্বাধীনতা রক্ষার সাংবিধানিক অধিকার অনুচ্ছেদ ২১ মাথায় রেখে এই আইনি সুরক্ষাগুলি যুক্ত করা হয়েছে। তাই পুলিশকেই বিধানগুলি মানতে হবে। এমনকি আদালত আরও জানিয়েছে, যদি প্রথমে নোটিশ জারি করা হয় এবং পরে গ্রেফতার করা হয়, তাহলে নতুন পরিস্থিতি বা নতুন প্রমাণের ভিত্তিতেই সেই কাজ করতে হবে। আগের একই কারণ দেখিয়ে পরে গ্রেফতার করা যাবে না।