সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের নয়া মোড় (India Pakistan Relations)। বৃহস্পতিবার দুই দেশ পরস্পরের পরমাণু স্থাপনা এবং কেন্দ্রের তালিকা বিনিময় করল, যা দীর্ঘদিনের দ্বীপাক্ষিক চুক্তির একটি অংশ। পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা এবং তার পরবর্তী অপারেশন সিঁদুরের পর এই পদক্ষেপকে বিশেষজ্ঞরা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে।
এ বিষয়ে ভারতের বিদেশমন্ত্রক এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, ভারত এবং পাকিস্তান আজ একসঙ্গে নয়া দিল্লি ও ইসলামাবাদে কূটনৈতিক মাধ্যমে পরমাণু ব্যবস্থাপনা এবং সুবিধাগুলির তালিকা বিনিময় করছে। আর এই তালিকা ভারত ও পাকিস্তানের পরমাণু স্থাপনায় আক্রমণ নিষিদ্ধকরণ চুক্তির আওতাতেই আদান-প্রদান হয়েছে।
তিন দশকের পুরনো চুক্তি
জানিয়ে রাখি, এই চুক্তিটি ১৯৮৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত হয়েছিল এবং ২৭ জানুয়ারি, ১৯৯১ থেকে কার্যকর হয়। আর সেই চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ একই রকমের পরমাণুর স্থাপনায় কোনও রকম আক্রমণ করতে পারবে না। প্রথমবার তালিকা বিনিময় হয়েছিল ১৯৯৫ সালের ১ জানুয়ারি। আর বৃহস্পতিবার ৩৫ তম তালিকা বিনিময় হল। এদিকে প্রতিবার নতুন বছরের শুরুতেই এই তালিকা বিনিময়ের রীতি বজায় রাখা হয়, যা ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এখনও টিকে রয়েছে তার প্রমাণ বহন করে।
India and Pakistan today exchanged, through diplomatic channels, simultaneously at New Delhi and Islamabad, the list of Nuclear Installations and facilities, covered under the Agreement on the Prohibition of Attack against Nuclear Installations and Facilities between India and… pic.twitter.com/QPZhAN1ugV
— ANI (@ANI) January 1, 2026
আরও পড়ুন: সুখবর শোনাল সোনার দাম, রুপোও মুখে ফোটাচ্ছে হাসি! আজকের রেট
বলাবাহুল্য, পরমাণু স্থাপনের তালিকার পাশাপাশি ২০০৮ সালের দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশ একে অপরের হেফাজতে থাকা অসামরিক বন্দি এবং মৎস্যজীবীদের তালিকাও বিনিময় করেছিল। আর বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া একটি তথ্য অনুযায়ী, ভারতের হেফাজতে ৩৯১ জন পাকিস্তানি বা পাকিস্তানি বলে মনে করা অসামরিক বন্দি ছিল এবং ৩৩ জন পাকিস্তানী মৎস্যজীবী ছিল। পাশাপাশি পাকিস্তানের হেফাজতে ছিল ৫৮ জন ভারতীয় বা ভারতীয় বলে মনে করা অসামরিক বন্দি এবং ১৯৯ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী। এদিকে ভারত সরকার পাকিস্তানের কাছে দাবি জানিয়েছিল, যারা ইতিমধ্যেই সাজা পেয়েছে, সেই ১৬৭ জন ভারতীয় মৎস্যজীবী এবং অসামরিক বন্দিকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে দেশে ফেরানো হোক। এমনকি তাদের নৌকো ফেরত দেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছিল।
আরও পড়ুন: ফোনের নেটওয়ার্ক না থাকলেও করা যাবে কল! BSNL চালু করল Wi-Fi Calling পরিষেবা
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছে, বর্তমানে যা পরিস্থিতি, সেখানে এই তালিকা বিনিময় থেকে প্রমাণ মিলছে যে, উত্তেজনার মাঝেও ন্যূনতম কূটনৈতিক দায়িত্ব বজায় রাখতে চলেছে দুই দেশ। এমনকি আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতিও বজায় রাখতে চায় তারা। সম্পর্কে স্বাভাবিক হওয়ার পথ এখনও অনেক দূরে। কিন্তু এই পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্থিতাবস্থার জন্য কিছুটা হলেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।