সারদা, রোজভ্যালির পর বাংলায় আরেক চিটফাণ্ড কেলেঙ্কারি! পূর্বস্থলী! কোটি কোটি টাকা তছরুপ

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সারদা-রোজভ্যালিতে চিটফান্ড কাণ্ড (Chit Fund Case) নিয়ে বিতর্ক এখনও শেষ হয়নি। হাজার হাজার বিনিয়োগকারীর থেকে বেআইনিভাবে আমানত সংগ্রহ করা হয়েছিল, যদিও এই ঘটনা সংক্রান্ত মামলা এখন বিচারাধীন। ইডি জানিয়েছে, তারা প্রায় ৪৫০ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করেছে যা বিনিয়োগকারীদের ফেরানো হবে। আর এই অবস্থায় সারদার স্মৃতি দেখা গেল পূর্বস্থলীতে (Purbasthali), আরেক চিটফান্ড কাণ্ডের হদিস পাওয়া গেল। আমানতকারীদের টাকা নিয়ে পালাল প্রতারকরা।

পূর্বস্থলীতে চিটফান্ড কাণ্ড

রিপোর্ট মোতাবেক, পূর্ব বর্ধমানের পূর্বস্থলী এলাকায় চিটফান্ডে টাকা বিনিয়োগের নাম করে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হয়েছিল গ্রাহকদের কাছ থেকে। দাবি করা হয়েছিল টাকা বিনিয়োগ করলে অল্প সময়েই বিপুল পরিমাণ সুদ মিলবে। অনেকেই তাঁদের টোপ গিলে টাকা বিনিয়োগও করে বসছেন। দীর্ঘদিন ধরে এই সংস্থায় টাকা জমা করেছিলেন। কিন্তু এখন টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে চোখ কপালে উঠল লগ্নিকারীদের। অভিযোগ, জমানো কোটি কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেল দুই চিটফান্ড মালিক। ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। যদিও এখনও পর্যন্ত থানায় কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি।

অফিসিয়াল কাগজপত্রের মধ্যেও রয়েছে ত্রুটি

লগ্নিকারীদের অভিযোগ, টাকা নেওয়ার সময় যে কাগজপত্র চিটফান্ড থেকে দেওয়া হয়েছিল তাতেও একাধিক গোলযোগ ছিল। এমনকি ওই কাগজে ওই প্রতারকরা পুরো স্বাক্ষর করত না। এখানেই শেষ নয়, অফিসিয়াল কাগজপত্রের মধ্যেও ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের কোনও অনুমোদনও ছিল না। এইভাবেই এই চিট ফান্ড চালানো হত, আর সাধারণেরা এই প্রতারকদের বিশ্বাস করে তাঁদের সমস্ত সঞ্চয় বিনিয়োগ করতেই জালিয়াতির শিকার হল। জানা গিয়েছে, ওই দুই মালিকের মধ্যে একজনের বাড়ি পূর্বস্থলী থানার সিংহারি গ্রামে এবং অপরজনের বাড়ি পূর্বস্থলী নতুন বাজারপাড়া এলাকায়। এই বিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করছেন অনেকেই।

আরও পড়ুন: একদম ঝাঁ চকচকে, অমৃত ভারত প্রকল্পে ভোল বদলে গেল পুরুলিয়ার দুই রেল স্টেশনের

প্রসঙ্গত, এলাকায় একাধিক চিটফান্ডের রমরমা ব্যবসা চলছে ইদানিং। সারদা থেকে শুরু করে রোজভ্যালি, একসময় চিটফান্ডের রমরমা কারবার দেখে রীতিমতো চোখ কপালে উঠেছিল সাধারণ মানুষের। কিন্তু, ধীরে ধীরে এই সমস্ত বড় চিটফান্ডগুলি প্রতারণার জাল ছড়িয়ে ফেলেছে, আর তাতেই সাধারণের কোটি কোটি টাকা জলে চলে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠছে প্রতারকদের বিরুদ্ধে কি আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে পুলিশ প্রশাসনের তরফে।

Leave a Comment