‘সুদখোর ইউনূস’কে বিঁধে ফের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনের বার্তা শেখ হাসিনার

Sheikh Hasina

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: বাংলাদেশের রাজনীতি এমনিতেই তোলপাড়। তার মধ্যেই বড়সড় বার্তা দিলেন দেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina)। দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক জল্পনার অবসান কাটিয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন যে, তিনি থামছেন না, বরং আবারও সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

শুক্রবার দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘Save Democracy in Bangladesh’ সম্মেলনে অডিও বার্তার মাধ্যমে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূসকে তিনি কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। এমনকি তিনি ইউনূসকে সুদখোর, খুনি আর দুর্নীতিগ্রস্ত বলেই কটাক্ষ করেছেন। একইসঙ্গে গোটা বাংলাদেশে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন হাসিনা।

কী বললেন শেখ হাসিনা?

এদিন নিজের বক্তব্যে শেখ হাসিনা দাবি করেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশের গণতন্ত্র নির্বাসিত। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ধ্বংস করা হচ্ছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। পাশাপাশি সর্বত্র ভয় এবং সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। হাসিনার কথায়, সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি বর্তমানে ধ্বংসের মুখে। হত্যা থেকে শুরু করে অগ্নিসংযোগ, লুটপাট আর তোলাবাজি নিত্যদিনের ঘটনা।

এদিকে ওপার বাংলার সাধারণ মানুষের উদ্দেশ্য তিনি বার্তা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ আমাদের একদিন স্বাধীনতা এনে দিয়েছিল। আর সেই একই চেতনায় আজ আবারও দেশকে জেগে উঠতে হবে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব বর্তমানে হুমকির মুখে। তিনি আরও বলেছেন, দেশের আত্মা এবং ইতিহাসকে কলঙ্কিত করা হচ্ছে, যা কোনও রকম ভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

এদিকে নিজের দলের প্রসঙ্গ টেনে এনে শেখ হাসিনা বলেছেন, আওয়ামী লিগ কোনও নতুন দল নয়। এই দলই বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সবথেকে বড় স্তম্ভ। তাঁর দাবি, গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল এবং অসাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিকে একসঙ্গে হয়েই দেশকে উদ্ধার করতে হবে। আর দেশকে এই ভরাডুবির হাত থেকে বাঁচাতে হবে।

আরও পড়ুন: পাকিস্তানে বিয়ের অনুষ্ঠানে ভয়াবহ হামলা, মৃত্যু ৭, আহত অন্তত ২৫ জন

শান্তি এবং গণতন্ত্র ফেরানোর জন্য ৫ দাবি

এদিন বক্তৃতা শেষে শেখ হাসিনা বাংলাদেশের শান্তি এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করার জন্য পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। সেগুলি হল—

  • সংখ্যালঘু এবং মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
  • বর্তমান প্রশাসনকে অপসারণ করে গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
  • ভোটারদের ভয় দেখানো বা প্রভাবিত করার চেষ্টা সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করতে হবে।
  • সাংবাদিক এবং বিরোধী নেতাদের উপর চাপ সৃষ্টি বন্ধ করতে হবে। আর বিচার ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়াতে হবে।
  • অবিলম্বে হিংসা কাটিয়ে বেসামরিক সংস্থাগুলিকে স্বাধীনতার কাজ করার সুযোগ করে দিতে হবে।

এর পাশাপাশি গত বছরের ঘটনাগুলির নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য জাতিসংঘের হস্তক্ষেপ চাওয়ার কথাও জানিয়েছেন আওয়ামী লিগের সভানেত্রী।

Leave a Comment