প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে নানা ব্যস্ততার মাঝেই ফের খবরের শিরোনামে উঠে এল বেলডাঙা অশান্তি মামলা (Beldanga Violence Case)। খারিজ করে দেওয়া হল রাজ্যের আবেদন। শুধু তাই নয় মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় গোলমাল, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তদন্তভার রইল NIA-এর হাতেই। বুধবার দেশের শীর্ষ আদালত শুনানিতে স্পষ্ট জানায় তারা এনআইএ তদন্তে হস্তক্ষেপ করবে না। এবং পুনরায় মামলা পাঠানো হয় কলকাতা হাইকোর্টে।
বেলডাঙার অশান্তি নিয়ে নয়া মোড়
উল্লেখ্য, ঝাড়খণ্ডে বেলডাঙার এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অশান্ত হয়ে উঠেছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। উত্তেজনার পারদ এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে সরকারি বিডিও অফিস, দোকানপাট, সরকারি সম্পদ ভাংচুর করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের ওপর মারধরের ঘটনাও ঘটেছিল। টানা দুই তিন দিন ধরে অশান্ত ছিল গোটা বেলডাঙা। যদিও পরে বেলডাঙার ঘটনার প্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও দায়ের হয়। সেই সময় প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ সাধারণ মানুষের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এই ঘটনায় NIA তদন্তের নির্দেশ দেন। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নির্দেশে বেলডাঙার তদন্তভার NIA-র হাতে তুলে দেওয়া হয়।
রাজ্যের আবেদন খারিজ করলে সুপ্রিম কোর্ট
হাইকোর্টের NIA তদন্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে দ্বারস্থ হয়েছিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। কিন্তু তাতেও খুব বেশি সুরাহা হল না রাজ্যের। রিপোর্ট মোতাবেক আজ অর্থাৎ বুধবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ বেলডাঙ্গার অশান্তিকে ঘিরে রাজ্য সরকারের আবেদন খারিজ হয়। কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশে বেলডাঙা ঘটনার তদন্তভার এনআইএ-র হাতে দিয়েছিল, তাতে আপাতত কোনও স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ তদন্ত আগের মতোই চলবে। তবে রাজ্য সরকার চাইলে হাইকোর্টের কাছেই তাদের পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাতে পারবে বলে জানিয়েছে শীর্ষ আদালত।
আরও পড়ুন: বর্ধমানে বাড়ছে HIV সংক্রমণ! আক্রান্ত ৯০, সতর্কবার্তা স্বাস্থ্য দপ্তরের
রিপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ NIA-কে
বেলডাঙ্গা মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, ‘‘প্রায় এক মাস আগে NIA-কে তদন্তভার দেওয়া হয়েছে। তারা এফআইআর দায়ের করেছে। তবে ইউএপিএ-র ১৫ নম্বর ধারা প্রয়োগ করা উচিত কি না, সে বিষয়ে আমরা এখনই কোনও মতামত দিচ্ছি না। তাই মামলাটি ফের কলকাতা হাইকোর্টে পাঠানো হয়েছে। ’’ সুপ্রিম কোর্ট পর্যবেক্ষণে জানায়, ঘটনাস্থলে অবরোধ হয়েছিল এবং সাধারণ মানুষের জনজীবন ব্যাহত হয়েছিল – এ তথ্য অস্বীকার করা যায় না। পাশাপাশি অর্থনৈতিক নিরাপত্তার প্রশ্নও এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত আদালতের। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা প্রাথমিক অনুসন্ধানের রিপোর্ট মুখবন্ধ খামে হাইকোর্টে জমা দেবে। এবং সেই রিপোর্ট খতিয়ে দেখে পরবর্তী নির্দেশ দেবে উচ্চ আদালত।