স্বামীকে থানায় নেওয়ার পর গৃহবধূকে গণধর্ষণ! অভিযুক্ত তৃণমূলের কর্মী, সমর্থকরা

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), আর এই অবস্থায় রাজ্য জুড়ে একের পর এক হিংসামূলক ঘটনা ঘটেই চলেছে। এমতাবস্থায় খবরের শিরোনামে উঠে এল দক্ষিণ দিনাজপুর (Dakshin Dinajpur) জেলার হরিরামপুর (Harirampur) থানা এলাকা। অভিযোগ স্বামীকে পুলিশে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর এক গৃহবধূকে গণধর্ষণ করা হয়। অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। যার ফলে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে।

ঠিক কী ঘটেছিল?

রিপোর্ট মোতাবেক, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার হরিরামপুর থানা এলাকার অন্তর্গত ওই মহিলা নতুন ঘর করেছেন সম্প্রতি। কিন্তু সেই বাড়ি নির্মাণ নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিবাদ চলছিল বেশ কিছুদিন ধরে। প্রতিবেশীদের দাবি ছিল, তাঁদের জমির উপরেই বেআইনিভাবে বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে। আর তাই গত বুধবার রাতে প্রতিবেশীরা থানায় অভিযোগ জানালে পুলিশ ওই মহিলার স্বামীকে আটক করে নিয়ে যায়। এরপরই ওই রাতে বেশ কয়েকজন দুষ্কৃতী বাড়িতে ঢুকে মহিলাকে মারধর করে এবং তাঁকে তুলে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল

জানা গিয়েছে, নির্যাতিতাকে পুলিশের কাছে নিয়ে যান জাতীয় কংগ্রেসের জেলা সভাপতি গোপাল দেব। হরিরামপুর থানার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন নির্যাতিতা। তাঁর অভিযোগ, অভিযুক্তরা শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী সমর্থকরা। যদিও পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। এদিকে গোটা ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা বেশ চরমে উঠেছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার গোটা ঘটনার বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া ভাষায় রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন। প্রশ্ন তুলেছে সমাজে নারী নিরাপত্তা নিয়ে।

বিস্ফোরক পোস্ট সুকান্তর

সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেছেন, “এই ঘটনা রাজ্যে আইনশৃঙ্খলার অবনতিরই প্রমাণ। অভিযুক্তরা জোর করে মহিলার বাড়িতে ঢুকে প্রথমে তাঁর স্বামীকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এরপর লোহার রড দিয়ে মারধর করে তাঁর উপর নির্মম অত্যাচার চালানো হয় এবং তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। রাজ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, মহিলারা নিজেদের বাড়িতেও আর নিরাপদ নন।” এদিকে এই ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তদন্তে নেমেছে পুলিশ, এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

আরও পড়ুন: ভোট ট্রেনিংয়ে মমতার ছবি দেখানোয় আপত্তি, রাণাঘাটে ভোটকর্মী শিক্ষককে মারধর

স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, পুরো ঘটনাকে ভোটের আগে পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে ঘটনার সময় নিয়ে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও দাবি তাদের। যদিও তারিখটি ভুল করে লেখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্যাতিতা। এই বিষয়ে জেলা পুলিশ সুপার চিন্ময় মিত্তাল বলেন, “আমরা অভিযোগ পেয়েছি। মামলার রুজু করে পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”

Leave a Comment