হাওড়ার প্রেমচাঁদ জুটমিলে পড়ল তালা, ৪০০০ শ্রমিকের মাথায় হাত

Howrah

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: দিনের পর দিন মূল্যবৃদ্ধির চাপে রীতিমত দিশেহারা হয়ে পড়েছে মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে নিম্নবিত্তরা। তার উপর বাজারে দিনদিন বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এই অবস্থায় ফের বন্ধের মুখে পড়ল আরও এক জুটমিল। জানা গিয়েছে, কাঁচা পাটের চরম সঙ্কট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি-সহ একাধিক কারণে বন্ধ হয়ে গেল হাওড়ার (Howrah) বাউড়িয়ার প্রেম চাঁদ জুট মিল। মাথায় হাত শ্রমিকদের।

বন্ধ হল আরও এক জুটমিল

বর্তমান পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার সকালে নিত্যদিনের মতোই কাজের জন্য শ্রমিকরা হাওড়ার উলুবেড়িয়ার চেঙ্গাইলের প্রেমচাঁদ জুট মিলে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে দেখেন কারখানার গেটে মালিক কর্তৃপক্ষ মিল সাময়িক বন্ধের নোটিস লাগিয়ে রেখেছেন। কারণ হিসেবে জানানো হয়েছে, কাঁচা পাটের সরবরাহ কম থাকায় এবং দাম বেড়ে যাওয়ায় পাট কেনা যাচ্ছে না। সে কারণে আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মিল বন্ধের নোটিস দেওয়া হল। এর জেরে কর্মহীন হয়ে পড়লেন প্রায় ৪ হাজার শ্রমিক। কারণ তাঁদের দাবি, সাময়িক বললেও মিল কার্যত বন্ধই করে দেওয়া হয়েছে।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ শ্রমিকদের

শ্রমিকরা জানিয়েছেন বাউড়িয়ার চটকলগুলির মধ্যে অন্যতম বড় চটকল এই প্রেমচাঁদ চটকল। কোনরকম সমস্যা হচ্ছিল না সেখানে কাজ করতে। কিন্তু হঠাৎ করে মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের বক্তব্য, যেসব কারণ দেখিয়ে মিল বন্ধ করা হয়েছে তা যথাযথ নয়। তাছাড়া মিল পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া ষড়যন্ত্র করেছে মিল কর্তৃপক্ষ। এদিকে মিলের তরফে জানানো হয়েছে, ফিনিশিং ডিপার্টমেন্ট বেল গোডাউন এবং এর সংশ্লিষ্ট বিভাগ গুলির কাজ, কাঁচা পাটের মজুত ও কাঁচা পাটের গাড়ি খালাস করার কাজ সহ বিভিন্ন বিভাগের কাজ প্রয়োজন অনুযায়ী চালু থাকবে। কিন্তু তাতেও সমস্যা মিটছে না।

আরও পড়ুন: ফোর্ট উইলিয়ামের অফিসারকে নিয়ে উল্টোপাল্টা মন্তব্য! মমতার বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ সেনার

উলুবেড়িয়ার চেঙ্গাইলের প্রেমচাঁদ জুটমিলের তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের নেতা মন্টু শাসমল বলেন, ”কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল নীতি এবং মিল কর্তৃপক্ষের ভুল পদক্ষেপের কারণে আজকে মিলটি সমস্যায় পড়ল। একদিকে কাঁচা পাটের দাম বাড়ানো হয়েছে কিন্তু উৎপাদিত পণ্যের দাম বাড়ানো হয়নি। তবে মিল কর্তৃপক্ষ যে কনভেনশনাল তাঁত ব্যবস্থার কথা বলছে এটা বাহানা মাত্র। আমাদের মাত্র ১০০ টি এরকম কনভেনশনাল তাঁত রয়েছে। তাতে মিল বন্ধ করার মতো পরিস্থিতি নয়।” এই ব্যাপারে মিলের পার্সোনাল ম্যানেজার এবং অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বিভাগের কর্তা প্রণব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার কোন উত্তর তিনি দেননি।

Leave a Comment