সহেলি মিত্র, কলকাতা: হাওড়া শিয়ালদা লাইনের লোকাল ট্রেনের (Howrah-Sealdah Local Train) যাত্রীদের জন্য রইল দারুণ সুখবর। বিশেষ করে আপনিও যদি ট্রেনে রোজ যাতায়াত করে থাকেন তাহলে জানিয়ে রাখি, এবার লোকাল ট্রেনেও বসতে চলেছে ‘কবচ’ সিস্টেম। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন।
হাওড়া, শিয়ালদার লোকাল ট্রেনেও বসবে কবচ!
বর্তমানে শিয়ালদা-হাওড়া দুই ডিভিশন মিলে দৈনিক প্রায় ৪০ লক্ষ যাত্রী শহরতলির ট্রেনে সফর করেন। এহেন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের নিরাপত্তা সবথেকে বড় বিষয় রেলের কাছে। ছাড়াও কম সময়ের ব্যবধানে ট্রেন চলাচল বাড়াতে এখন এই কবচ প্রযুক্তি বসানোর কাজ শুরু হচ্ছে বলে রেল খবর। হাওড়া-নয়া দিল্লি রুটের ব্যস্ত পরিসরে পূর্ব রেলের ধানবাদ পর্যন্ত অংশে নতুন প্রযুক্তি বসানোর কাজ আগামী জুলাই মাসের আগেই সম্পূর্ণ করতে চায় রেল। প্রায় ৯০ শতাংশ কাজ হয়ে গিয়েছে বলে রেল সূত্রের খবর। ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা বাড়াতে লেভেল ক্রসিংয়ের সংখ্যা কমাতে চেষ্টা করছে রেল।
সোমবার রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, রাজ্যে বিভিন্ন প্রকল্প খাতে রেলের বরাদ্দ গত বাজেটের তুলনায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বাজেটে ওই বরাদ্দ ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। এ বার ওই বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়ে ঠেকেছে ১৪ বাজার ২০৫ কোটি টাকায়। বারাণসী-শিলিগুড়ি হাইস্পিড রেল করিডরকে পরে গুয়াহাটি পর্যন্ত সম্প্রসারিত করা হবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুনঃ ফেব্রুয়ারিতে ৩২, মার্চে আরও বেশি! দক্ষিণবঙ্গে গরম নিয়ে ভয়ঙ্কর পূর্বাভাস আবহাওয়া দফতরের
কবচ নিয়ে বিরাট আপডেট
কবচ প্রস্তুতকারী সংস্থা মেধা সার্ভো ড্রাইভস প্রাইভেট লিমিটেডের মার্কেটিং ইঞ্জিনিয়ার কেশব যাদব জানিয়েছেন যে কবচ কেবল একটি ডিভাইস নয়, বরং একটি বুদ্ধিমান সুরক্ষা নেটওয়ার্ক যা ট্রেন, ট্র্যাক এবং সিগন্যালিং সিস্টেমের মধ্যে ক্রমাগত যোগাযোগ করে। এর প্রাথমিক উদ্দেশ্য হল রেল কার্যক্রমকে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ-নিরাপদ করা, যাতে সিস্টেমটি যেকোনো স্তরে মানুষের ত্রুটির ক্ষেত্রে অটোমেটিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে এবং দুর্ঘটনা রোধ করতে পারে।
ট্রেনের ব্রেক ও গতি কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করে ‘কবচ’?
Kavach 4.0 এর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল SPAD (সিগন্যাল পাসিং অ্যাট ডেঞ্জার) সুরক্ষা। যদি কোনও কারণে লোকো পাইলট লাল সংকেত পাস করে, তাহলে Kavach সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্রেক প্রয়োগ করে এবং ট্রেন থামায়। উপরন্তু, দুটি ট্রেনের মধ্যে নিরাপদ দূরত্ব ক্রমাগত পর্যবেক্ষণ করা হয়। প্রতিটি সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে – মুখোমুখি সংঘর্ষ, পিছনের দিকে সংঘর্ষ, বা পাশের চলাচল – বিপদ দেখা দেওয়ার আগেই ট্রেনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে থামে।
আরও পড়ুনঃ মাটির নীচ দিয়ে সেনার কাছে পৌঁছবে অস্ত্র, চিকেন নেক-এ বড় প্ল্যান ভারতের
এই সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয় গতি নিয়ন্ত্রণও অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি অংশের জন্য নির্ধারিত গতিসীমা সিস্টেমে আগে থেকেই অন্তর্ভুক্ত থাকে। চালক গতিসীমা অতিক্রম করার চেষ্টা করলেও, ট্রেনটি নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করতে পারবে না। স্টেশন এলাকা, লুপ লাইন বা গতি-নিয়ন্ত্রিত অংশে প্রবেশ করার পর, আর্মার বা কবচ স্বয়ংক্রিয়ভাবে গতি নিয়ন্ত্রণ করে।