সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে এবার ঐতিহাসিক মাইলফলক ছুঁল DRDO। অত্যাধুনিক সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র্যামজেট প্রযুক্তির (DRDO Ramjet Technology) সফল পরীক্ষা করে ভারত এবার বিশ্বের হাতেগোনা কয়েকটি দেশের তালিকায় প্রবেশ করল। এই পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে গতকাল অর্থাৎ ৩ ফেব্রুয়ারি ওড়িশার চাঁদিপুর ইন্টিগ্রেটেড টেস্ট রেঞ্জ থেকেই। জানা যাচ্ছে, এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে দীর্ঘ পাল্লার মিসাইল তৈরির ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা নেবে।
কী এই সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র্যামজেট প্রযুক্তি?
জানিয়ে রাখি, র্যামজেট হল এক ধরনের এয়ারব্রিডিং ইঞ্জিন। এখানে ক্ষেপণাস্ত্রের গতি ব্যবহার করে বাইরের বাতাসকে সংকুচিত করা হয়। এমনকি এতে কোনও ঘূর্ণায়মান যন্ত্রাংশ থাকে না। ফলত, গঠন তুলনামূলকভাবে সরল, তবে কার্যক্ষমতা বেশি। এই প্রযুক্তিতে কঠিন জ্বালানি ধাপে ধাপে পোড়ানো হয় এবং বাইরের বাতাস ইঞ্জিনের মধ্যে প্রবেশ করে। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ গতিতে নিরবিচ্ছিন্ন থ্রাস্ট তৈরি হয়। সাধারণ রকেট ইঞ্জিন খুব দ্রুত জ্বালানি শেষ করে ফেলে এবং তারপর কোস্টিং মোডে চলে যায়। তবে র্যামজেট ক্ষেপণাস্ত্র বাতাসকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে, যার জন্য অনেক বেশি সময় ধরে উচ্চগতি বজায় রাখে।
ডিআরডিও-র তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই পরীক্ষার শুরুতে একটি গ্রাউন্ড বেসড বুস্টার ব্যবহার করে ক্ষেপণাস্ত্রটিকে নির্দিষ্ট ম্যাক গতিতে পৌঁছনো হয়েছিল। আর সেই গতি অর্জন করার পরেই র্যামজেট ইঞ্জিন সক্রিয় হয়। পরীক্ষার সময় নজেল বিহীন বুস্টার, সলিড ফুয়েল ডাক্টেড র্যামজেট মোটর এবং ফুয়েল ফ্লো কন্ট্রোলার সবকিছু ঠিকভাবেই কাজ করেছে। আর ক্ষেপণাস্ত্রের সম্পূর্ণ উড়ানপথ বঙ্গোপসাগর উপকূলে বসানো বিশেষ সেন্সরের মাধ্যমে নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। এমনকি সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে ডিআরডিও নিশ্চিত করে যে, প্রপালশন ও কন্ট্রোল সিস্টেম সম্পূর্ণ সফল ছিল।
Solid Fuel Ducted Ramjet (SFDR) technology was successfully flight tested from the Integrated Test Range (ITR), Chandipur off the coast of Odisha today. SFDR is very crucial for development of long range Air to Air Missiles pic.twitter.com/66ZwE0micY
— DRDO (@DRDO_India) February 3, 2026
আরও পড়ুন: সোনা, রুপোর দামে ফের বড় পরিবর্তন! বাড়ল না কমল? আজকের রেট
ভারতের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ এই প্রযুক্তি?
বলে রাখি, এই প্রযুক্তির সাফল্য ভারতের জন্য শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত দিক থেকে নয়, বরং কৌশলগত দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এর মূল সুবিধাগুলি হল, অনেক বেশি দূরত্ব থেকেই এটি শত্রু বিমানকে আঘাত করতে পারে। এমনকি শেষ মুহূর্তে ক্ষেপণাস্ত্রের উচ্চগতি বজায় থাকে। আর শত্রু বিমানের পক্ষে তা এড়িয়ে যাওয়াও প্রায় অসম্ভব। ফলে পাইলটরা অনেক দূর থেকেই নিরাপদ অবস্থান বুঝে শত্রুকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারবে। মোদ্দা কথা, এর ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে ভারতীয় বায়ুসেনা বিশাল সুবিধা পাবে বলেই মনে করা হচ্ছে।