সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ একটু গরম লাগলেই এখন সকলের মূল গন্তব্য হচ্ছে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং নয়তো সিকিম। আপনিও কি এই এপ্রিল মাস বা গরমের ছুটিতে গরমের হাত থেকে বাঁচতে পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছেন? কিন্তু অতিরিক্ত ভিড় এড়াতে চাইছেন? তাহলে আপনাদের জন্য রইল দারুণ সুখবর। আজকের এই প্রতিবেদনে আপনাদের উত্তরবঙ্গের এমন তিনটি অফবিট (North Bengal Offbeat) সম্পর্কে তথ্য দেব যেখানে গেলে আপনার চোখ তো ধাঁধিয়ে যাবেই, সঙ্গে মনে হবে স্বর্গে এসে গিয়েছেন। হ্যাঁ একদম ঠিক শুনেছেন।
গরমে ঘুরে আসুন উত্তরঙ্গের এই ৩ ‘স্বর্গ’ থেকে
বছরের যে কোনও সময়ে আপনি পাহাড়ে যান, তখন সেই সময়ের চেহারা দেখতে পাবেন। এক কথায় মরসুম ভিত্তিতে আপনি পাহাড়ের রঙবদল কাকে বলে তা দেখতে পাবেন। এখন যেমন সমতলে গ্রীষ্মকাল শুরু হয়ে গিয়েছে। তবে পাহাড়ে গেলে কিছুটা হলেও মনোরম আবহাওয়া পাবেন। ইতিমধ্যে এপ্রিল মাস পড়ে গিয়েছে। সেই অসহ্যকর গরমের দিন আসতে চলেছে। সেইসঙ্গে গরমের ছুটিও তো পাইপলাইনে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আপনিও কি কোনও অফবিট জায়গা খুঁজছেন ঘুরতে যাওয়ার জন্য? তাহলে আজকের এই প্রতিবেদনটি রইল শুধুমাত্র আপনার জন্য।
লেপচাজগত
আজ প্রথমেই যে জায়গাটি নিয়ে আলোচনা করব যেখানে পাহাড়প্রেমীরা কখনও না কখনও গিয়েছেন নির্ঘাত। আজ কথা হচ্ছে লেপচাজগত নিয়ে। কুয়াশা, পাইন বনে ঘিরে থাকা এই জায়গাটি এক নিস্তব্ধ পাহাড়ের গল্প বলে। এখানে এলে আপনি আপনার সব খারাপ লাগা, অফিসের চাপ ইত্যাদি যে সকল জিনিস আপনাকে খুব ভাবায় তা ভুলে থাকতে পারবেন। দার্জিলিং জেলার একদম শান্ত ও অফবিট পাহাড়ি গ্রাম লেপচাজগিত প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য একদম স্বপ্নের মতো জায়গা। ঘন পাইন বন, কুয়াশায় ঢাকা রাস্তা আর চারদিকে নিস্তব্ধ পরিবেশ আপনাকে ভালো লাগায় ভরিয়ে দেবে। এখানে আপনি ট্রেক করে পাহাড়ে গেলে সুন্দর ভিউপয়েন্ট পাবেন। আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে এখান থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘার অসাধারণ ভিউ দেখতে পাবেন। মনে হবে একদম হাতের নাগালে আছে পাহাড়। এখানে লেপচারা বাস করেন, সেই থেকেই জায়গাটির নাম লেপচাজগত।
বেনদা
পাহাড়ে ঘুরতে গিয়ে একটু অন্যরকম অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করতে ইচ্ছুক? তাহলে এই বেনদা হল একদম পারফেক্ট স্পট আপনার জন্য। কালিম্পংয়ের বুকে লুকিয়ে থাকা বেনদা নামের গ্রামটি দেখলে মনে হবে প্রকৃতির স্বর্গ। এখানে পাওনি হিমালয়ের কোল ঘেঁষে সবুজঘেরা পাহাড়, ঝর্ণার কলতান আর শান্ত গ্রাম্য পরিবেশ দেখতে পাবেন। এখানকার বড় আকর্ষণ হলো চাঙ্গে ফলসের গর্জন, ফুরসে ভ্যালির সবুজ সমতল, আর মুলখাগ্রা লেকের কাচের মতো ঝকঝকে জল।
আরও পড়ুনঃ এপ্রিলে মিলবে না লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা? প্রকাশ্যে এল বড় আপডেট
ছোটা মাঙ্গোয়া
এপ্রিল মাসে গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে বাঁচতে এবং গরমের ছুটিতে পাহাড়ে কাটাতে চাইছেন? তাহলে আপনি ঢুঁ মারতে পারেন একদম অফবিট ছোটা মাঙ্গোয়া-তে। ছোটা মাঙ্গোয়া হল একদম ছবির মতো সুন্দর একটি গ্রাম। এই গ্রামে খুব কম মানুষের বাস। অনেকেই বলেন, এখানে নাকি প্রকৃতি কথা বলে। যদিও এই কথাটির সত্যতা যাচাই করতে দার্জিলিং জেলায় থাকা এই গ্রামে কমপক্ষে ২ দিনের জন্য হলে ঘুরে আসতে পারেন। চা বাগান, কাঞ্চনজঙ্ঘা, কমলালেবু বাগান, পাহাড়ি নদী, ফুলে ঢাকা রাস্তা দেখার সুযোগ পাবেন।