হাত মেলাচ্ছে টাটা, L&T, HAL! ভারতের প্রতিরক্ষা খাতে যুক্ত হবে আধুনিক যুদ্ধবিমান

Indian Defence Force

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: ভারতের প্রতিরক্ষা (Indian Defence Force) উৎপাদন ব্যবস্থায় এবার বিরাট পরিবর্তনের ইঙ্গিত। দেশের পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান AMCA তৈরির ক্ষেত্রে এবার বেসরকারি সংস্থাগুলিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা শুরু হল। টাটা অ্যাডভান্সড সিস্টেম থেকে শুরু করে লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (L&T) এবং ভারত ফোর্জের মতো সংস্থাগুলির নাম এবার অংশীদারের তালিকায় উঠে আসছে। আর যদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়, তাহলে এটি হবে ভারতের প্রতিরক্ষা ক্রয় আর উৎপাদন নীতিতে ঐতিহাসিক মাইলফলক।

কী এই AMCA?

জানিয়ে রাখি, AMCA বা অ্যাডভান্সড মিডিয়াম কম্ব্যাট এয়ারক্রাফট হল ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি হতে চলা পঞ্চম প্রজন্মের মাল্টিরোল স্টেলথ ফাইটার জেট। এটি শত্রুর রাডারে সহজে ধরা পড়ে না এবং উন্নত সেন্সর ও এভিওনিক্স যুক্ত রয়েছে। পাশাপাশি নেটওয়ার্ক সেন্ট্রিক যুদ্ধ ক্ষমতা এবং এয়ার ফোর্স ও নেভি, দুই বাহিনীর জন্যই পরিকল্পিত একটি রাডার তা বলা যায়। বর্তমানে এই প্রকল্পের উন্নয়নের দায়িত্ব রয়েছে অ্যারোনিউটিক্যাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি যা প্রতিরক্ষা গবেষণ দফতরের আওতাধীন।

এদিকে ভারতের যুদ্ধবিমান উৎপাদনে এতদিন প্রধান ভূমিকা পালন করে এসেছে সরকারি সংস্থা হিন্দুস্তান অ্যারোমেটিক্স লিমিটেড, যারা তেজস যুদ্ধ বিমান থেকে শুরু করে বিভিন্ন সামরিক হেলিকপ্টার, মেইনটেন্যান্স ও আপগ্রেড প্রকল্প সামলেছে। তবে এদের উপর এখন বিপুল অর্ডারের চাপ রয়েছে। তাই বিকল্প উৎপাদন সক্ষমতা তৈরি করা জরুরি বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞরা। এ বিষয়ে অবসরপ্রাপ্ত এয়ার ভাইস মার্শাল মনমোহন বহাদুর জানিয়েছেন, বেসরকারি সংস্থাকে যুক্ত করলে উৎপাদনের গতি আর বিকল্প সক্ষমতা তৈরি হবে।

থেকে যাচ্ছে চ্যালেঞ্জও

তবে পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধবিমান তৈরি করা বেশ জটিল কাজ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, শুধুমাত্র যন্ত্রাংশ তৈরি করলেই হবে না, বরং সম্পূর্ণ এয়ারফ্রেম স্ট্রাকচার, সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন, সফটওয়্যার সেন্সর ইন্টারঅ্যাকশন, স্টেলথ টেকনোলজি এবং লাইফ সাইকেল সাপোর্ট দরকার হবে। আর টাটা, L&T বা ভারত ফোর্জ ইতিমধ্যেই এয়ারবাস বোয়িং, সাপ্লাই চেইন, আর্টিলারি উৎপাদন বা মহাকাশ প্রক ল্পেকাজ করছে। কিন্তু সম্পূর্ণ ফাইটার জেট ইন্টিগ্রেশন একেবারেই ভিন্ন স্তরের চ্যালেঞ্জ তা বলা যায়।

আরও পড়ুন: খাবারে পড়েছিল টিকটিকি, মিড-ডে মিল খেয়েই গোটা স্কুলের ৭০ জন ছাত্রী হাসপাতালে ভর্তি

এদিকে এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দেশ জুড়ে বড়সড় কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে। কারণ, সম্ভাব্য HAL এর অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার, এডিএম বিশেষজ্ঞ থেকে শুরু করে গ্লোবাল এয়ারস্পেস প্রফেশনাল, প্রতিরক্ষা উৎপাদন সিস্টেমে দক্ষ কর্মী নিয়োগ করা হবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছে, অতিরিক্ত কম দর দিলে প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এমনকি অতীতে অন্য সেক্টরেও এরকম উদাহরণও রয়েছে। এখন দেখার এই অংশীদারিত্ব ঠিক কাদের কাছে যায়।

Leave a Comment