বিক্রম ব্যানার্জী, কলকাতা: অপারেশন সিঁদুর চলাকালীন গত মে মাসে পাকিস্তানের একটি ক্ষেপণাস্ত্রকেও ভারতের মাটি ছুতে দেয়নি রাশিয়ার হাতে তৈরি S-400 আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা সুদর্শন চক্র। সেখান থেকেই বড় শিক্ষা নিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। আর তারপরই আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্যকে এগিয়ে রেখে কীভাবে দেশের মাটিতেই এই ধরনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা যায় তা নিয়ে চলছিল আলোচনা (India New Defence System)। অবশেষে শোনা যাচ্ছে, প্রজেক্ট কুশার অধীনে এমন এক উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাইছে ভারত যা হবে S-400 এর সমতুল্য বা তার থেকেও ক্ষমতাশালী। আর এই বিশেষ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির মধ্যে দিয়ে বিদেশের উপর থেকে নির্ভরতা কমাতে চায় নয়া দিল্লি।
তিন মিসাইল এর শক্তিতেই গুঁড়িয়ে যাবে শত্রু
বেশ কয়েকটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারত সরকারের প্রজেক্ট কুশার অধীনে যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হবে তার মধ্যে থাকছে তিনটি ইন্টারসেপ্টার মিসাইল। জানা যাচ্ছে, এম1, এম2 এবং এম3 এই তিন মিসাইল দিয়েই তৈরি হবে বিশেষ এয়ার ডিফেন্সের শিল্ডের একটি স্তর। সবমিলিয়ে, ত্রি ক্ষেপণাস্ত্র বা তিন মিসাইলের শক্তি দিয়েই যে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি হবে। সেটাই শত্রুর যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন ড্রোন সহ অন্যান্য ক্ষেপণাস্ত্র গুলিকে আকাশেই মিলিয়ে দেবে।
আপাতত যা খবর, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাটি যে তিন মিসাইল দ্বারা তৈরি হবে তার প্রথম মিসাইল অর্থাৎ এম1 এর রেঞ্জ হবে কম করে 150 কিলোমিটার। যা বর্তমানে মাঝারি পার্লার বহু এয়ার ডিফেন্স মিসাইলের থেকে বেশি। এই মিসাইল শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্রগুলিতে সজোরে আঘাত হানতে সক্ষম। পরবর্তী স্তরে থাকছে এম2 মিসাইল। এই মিসাইলের পাল্লা 250 কিলোমিটার পর্যন্ত। যা দ্রুতগতিতে উড়তে থাকা যেকোনও ক্ষেপণাস্ত্রকে সহজে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারে। এছাড়াও তৃতীয় স্তরে যে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন এম3 মিসাইল থাকবে সেটি 350 কিলোমিটার রেঞ্জে শত্রুর ক্ষেপণাস্ত্রকে গুঁড়িয়ে দিতে পারবে। কয়েকটি রিপোর্ট বলছে, এই মিসাইলের পাল্লা আগামী দিনে বেড়ে 400 কিলোমিটার হতে পারে।
অবশ্যই পড়ুন: ইনস্টাগ্রাম থেকে বিরাটের তুলনায় অনেক বেশি টাকা আয় করেন এই খেলোয়াড়!
প্রসঙ্গত, ভারতের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বিশেষ আকাশ প্রতিরক্ষা সিস্টেমটি যুক্ত হলে তা যে শত্রুর চিন্তার কারণ হয়ে উঠবে সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না। আপাতত যা খবর, এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার এম3 মিসাইলের পরীক্ষা হতে পারে 2028 সালের মধ্যে। কাজেই এখনই যে বিশেষ মিসাইল সিস্টেম ভারতীয় সেনার হাতে চলে আসবে এমনটা ভাবার প্রয়োজন নেই। তবে যেদিন ভারত এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরিতে সফল হবে, সেদিন এই আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বা আয়রন ডোম রাশিয়ার S-400 কেও ছাপিয়ে যেতে পারে বলি মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।