হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে প্রথম ভোট, কোন দল এগিয়ে? কী বলছে সমীকরণ?

Bangladesh Election

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতার পর এবার নতুন অধ্যায়ের গোড়ায় বাংলাদেশ। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে (Bangladesh Election)। নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছে জোড়কদমে। আর তারই মধ্যে প্রশ্ন উঠছে যে, কোন দল পাল্লায় ভারী? বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ যা বলছে, তাতে ক্ষমতার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি বা বিএনপি। কিন্তু ভোটের হার, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাঙ্কের অবস্থান আর নতুন জোটগুলোর প্রভাব, সব মিলিয়ে এবার লড়াই যে একেবারে সহজ হবে না তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

কবে ভোট, কত আসন আর কত ভোটার?

রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যাচ্ছে, আগামীকাল অর্থাৎ ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ভোট অনুষ্ঠিত হবে। আর এবার মোট আসন রয়েছে ৩০০টি। সেক্ষেত্রে মোট ভোটার দাঁড়াচ্ছে ১২ কোটি ৭৭ লক্ষ। আর এই বিপুল ভোটার নির্বাচনের ফল নির্ধারণে বিরাট ফ্যাক্টর হতে চলেছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

এদিকে রাজধানী ঢাকা শহর বিভিন্ন জায়গায় ইতিমধ্যেই বড় বড় জনসভা শুরু করেছে রাজনৈতিক দলগুলি। হাসিনা সরকার পরবর্তী বাংলাদেশে এই নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আগ্রহ তুঙ্গে, তা বলার দাবি রাখে। এদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, নির্বাচন হবে অবাধ আর সুষ্ঠুভাবেই। বিশ্লেষকদের মতে, এটা শুধুমাত্র সরকার বদলের ভোট নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ ভোট। কারণ, ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের পর হাসিনা সরকারের পতন আর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আওতায় নির্বাচন, সবমিলিয়ে এটি হতে চলেছে বৃহৎ রাজনৈতিক সংস্কার।

কোন দলের অবস্থান কোথায়?

ওপার বাংলার বেশ কিছু সংবাদমাধ্যম বলছে, এবার নির্বাচনের দিক থেকে প্রথম সারিতে রয়েছে বিএনপি। রাজনৈতিক হাওয়া ও সমীক্ষার ইঙ্গিতে ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা তাদের প্রবল। সরকার বিরোধী ভোটের বড় অংশই তারা পাচ্ছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। তবে কঠোর শক্তি হিসেবে পরিচিত এই দল কিছু এলাকায় প্রভাব রাখলেও জাতীয় স্তরে পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে নতুন জোট বা এমসিপি অর্থাৎ ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের একাংশের তৈরি নতুন দলও যৌথ লড়াই করছে। কিন্তু তাদের শক্তি এখনও পর্যন্ত সীমিত।

আরও পড়ুন: বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা, ডলারের বিপরীতে মুখ থুবড়ে পড়ল ভারতীয় রুপি

তবে এক্ষেত্রে একটা বড়সড় প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। কারণ, যেহেতু বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ, তাই তাদের ভোট কোথায় যাবে? যেহেতু এতদিন ভোটব্যাঙ্কে শীর্ষে ছিল আওয়ামী লীগ, তাই বহু আসনের ফল নির্ধারণে তারা ‘কিং মেকার’ হতে পারে। আর তাদের সমর্থকরা কাকে সমর্থন করবে, সেটা এখন নির্বাচনের সবথেকে বড় অনিশ্চিত সমীকরণ। এখন সবটাই জানা যাবে আগামীকাল।

Leave a Comment