১১ প্রার্থীর ভোটে দাঁড়ানো নিয়ে আশঙ্কা, তড়িঘড়ি হাইকোর্টের দারস্থ তৃণমূল

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন (West Bengal Election 2026), কিন্তু এখনও রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন ঘিরে জটিলতা ও অনিশ্চয়তা কিছুতেই কাটছে না। এদিকে দেখা যাচ্ছে প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই বিচারাধীন তালিকায় রয়েছে। আর তাই সেই সব সমস্যার সমাধানের জন্য কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতির কাছে এবার বিস্তারিত আবেদন জানাল তৃণমূল।

হাইকোর্টে চিঠি পাঠাল তৃণমূল

শুক্রবার, কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কাছে SIR প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা এবং কার্যকারিতা সংক্রান্ত সমস্যা জানিয়ে চিঠি দিয়েছে তৃণমূল। জানানো হয়েছে, বহু রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম এখনও এই সংশোধন প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে। শুধুমাত্র তৃণমূলেরই অন্তত ১১ জন প্রার্থীর নাম বিচারাধীন। ফলে তাঁদের ক্ষেত্রে দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। তাই আদালতের কাছে আবেদন, রাজনৈতিক দলগুলির প্রার্থীদের মামলাগুলি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে এবং প্রয়োজনে আপিলও দ্রুত শুনানি করতে হবে।

১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন নিয়েও উঠছে প্রশ্ন

তৃণমূলের পাঠানো চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, আইনি নিয়ম অনুযায়ী সম্পূরক তালিকা প্রকাশের পর ১৫ দিনের মধ্যে আপিল করা যাবে। কিন্তু বাস্তবে মনোনয়নের শেষ তারিখ পেরিয়ে গেলে ভোটার তালিকা ‘ফ্রিজ’ হয়ে যাবে। ফলে অনেক ক্ষেত্রেই আপিলের সুযোগ থাকলেও তার কার্যকারিতা থাকবে না। এই অবস্থায় আদালতের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, যাতে আপিলগুলির দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করা হয়। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ১৯টি ট্রাইবুনাল গঠন করা হলেও, অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘ECINET’ এখনও পুরোপুরি চালু হয়নি বলে অভিযোগও তোলা হয়।

SIR নিয়ে ক্ষুব্ধ মমতা

SIR নিয়ে প্রথম থেকেই সরব ছিল রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীরা বরাবর বৈধ ভোটারদের নাম বাদ যাতে না যায় তা নিয়ে আওয়াজ তুলেছিল। এখানেই শেষ নয়, SIR-কে নিয়ে নির্বাচনী প্রচারের ময়দানে নেমেছে দল। এখনও পর্যন্ত করা প্রতিটি জনসভায় নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রকে SIR নিয়ে বিঁধেছেন সকলে। কিন্তু তাতেও যেন সমস্যার জট কাটছে না। আর এই অবস্থায় তৃণমূলেরই অন্তত ১১ জন প্রার্থীর নাম বিচারাধীন থাকায় মনোনয়ন জমা দেওয়া নিয়ে এক জটিলতা তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুন: দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়েও চরম বিভ্রাট, কত জনের নাম বাদ?

প্রথম এবং দ্বিতীয় সাপ্লিমেন্টারি তালিকা নিয়ে একাধিক তর্ক বিতর্ক তৈরি হচ্ছে। প্রকাশ্যে আসছে না পূর্ণাঙ্গ তালিকা, তাই সব মিলিয়ে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে চাপ বাড়ছে। প্রশ্নের মুখে পড়ছে নির্বাচন কমিশনার। এদিকে নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ২৯৪টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে বাংলায়। ফলাফল ঘোষণা হবে ৪ মে। এখন দেখার এই পরিস্থিতির জল কতদূর এগোয়।

Leave a Comment