প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এইমুহুর্তে রাজ্যে ২৬৮২ টি কেন্দ্রে চলছে মাধ্যমিক পরীক্ষা। যা শেষ হবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, আর সেই আবহেই, ওইদিনই অর্থাৎ বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হচ্ছে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা। এবার একই কেন্দ্রে মোট ৩ ধরনের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছেন। চতুর্থ সেমিস্টার, তৃতীয় সেমিস্টারের সাপ্লিমেন্টারি এবং পুরনো পদ্ধতির উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী মিলিয়ে প্রায় ৭ লক্ষ পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় বসছে। এই প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এত বড় পরিসরে পরীক্ষা পরিচালনা হচ্ছে তাই স্বাভাবিকভাবে সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিক রাখতে বড় পদক্ষেপ নিলেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের (WBCHSE) সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য।
সাংবাদিক বৈঠকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদে
রিপোর্ট মোতাবেক SIR আবহে নির্বিঘ্নে পরীক্ষা পরিচালনা করার জন্য গতকাল অর্থাৎ সোমবার, ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা সংক্রান্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আলোচনা করার জন্য সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। আর সেখানেই একাধিক নিয়ম-বিধি ও নির্দেশিকা সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরলেন সংসদ সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য। তিনি জানান, “ আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত রাজ্য জুড়ে মোট তিন ধরনের পরীক্ষা হবে। যেহেতু নতুন সেমেস্টার পদ্ধতিতে এই প্রথম উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে এত বড় পরীক্ষা পরিচালনা করা হচ্ছে, তাই প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থায় গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।” পরীক্ষার দিনগুলিতে পরীক্ষার্থীদের সকাল ৯টার মধ্যে কেন্দ্রে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।
পরীক্ষার গোপনীয়তা বজায় রাখতে একাধিক ব্যবস্থা
চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “পরীক্ষা পরিচালনার জন্য রাজ্য জুড়ে ৮২২টি প্রধান পরীক্ষা কেন্দ্র এবং মোট ২১০৩টি ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০৪টি ১০৪টি ভেন্যুকে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষা কক্ষে ২০ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে ন্যূনতম দুজন করে ইনভিজিলেটর বা পরিদর্শক রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষার গোপনীয়তা বজায় রাখতে একাধিক কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি ভেন্যুর মূল গেট এবং ভেন্যু সুপারভাইজারের কক্ষে CCTV নজরদারির ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়াও মেটাল ডিটেক্টরের মাধ্যমে মোবাইল ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক গ্যাজেট পরীক্ষা করা হবে।”
আরও পড়ুন: দ্বিতীয়বার পিছিয়ে গেল আইপ্যাক মামলার শুনানি, নতুন দিন ধার্য করল সুপ্রিম কোর্ট
প্রশ্নপত্র খোলার ক্ষেত্রে থাকবে ‘সিল ওপেনিং ফর্ম্যাট’
উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যদি পরীক্ষাকক্ষে মোবাইল বা কোনও ইলেকট্রনিক ডিভাইস পাওয়া যায় তাহলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীর এনরোলমেন্ট-সহ সমস্ত পরীক্ষা বাতিল করা হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ৪৬৫ জন পরীক্ষার্থীর জন্য রাইটার, অতিরিক্ত সময় এবং ইন্টারপ্রটার-সহ প্রয়োজনীয় সুবিধা রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয়, আঞ্চলিক এবং জেলা স্তরে কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে, যাতে কোনও সমস্যা হলেই দ্রুত সমাধান করা যায়। অন্যদিকে প্রশ্নপত্র খোলার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট ‘সিল ওপেনিং ফর্ম্যাট’ মেনে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং প্রশ্নপত্র ও কাপড়ের ব্যাগের রঙেও থাকছে আলাদা চিহ্ন। সব মিলিয়ে উচ্চ মাধ্যমিক নির্বিঘ্নে সারতে প্রশাসনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে।