১৩ বছর ধরে শয্যাশায়ী, গাজিয়াবাদের যুবককে দেশে প্রথম ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি সুপ্রিম কোর্টের

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: মানবিকতা বিবেচনা করে এবার বিরাট সিদ্ধান্ত নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত (Supreme Court)। বুধবার সুপ্রিম কোর্ট গাজিয়াবাদের যুবক হরিশ রাণাকে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া (Passive Euthanasia) বা ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি দিল। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শয্যাশায়ী এই যুবকের জীবনের যন্ত্রণা আর চিকিৎসকদের পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আদালত এই বড়সড় সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আর আদালতের এই রায়কে দেশে প্যাসিভ ইউথেনেশিয়া সংক্রান্ত মামলার ক্ষেত্রে নজরবিহীন রায় হিসেবেই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু কে এই হরিশ রাণা?

আদালতের পর্যবেক্ষণ

রায় ঘোষণা করতে গিয়ে আদালত জানিয়েছে যে, ইচ্ছামৃত্যুর প্রক্রিয়া অবশ্যই মর্যাদা আর মানবিকতার সঙ্গেই সম্পন্ন হতে হবে। সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুযায়ী, হরিশ রাণাকে ভর্তি করা হবে দিল্লির এইমসের প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিভাগে। সেখানে ধাপে ধাপে চিকিৎসা সহায়তা প্রত্যাহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। শুনানির সময় বিচারপতিরা মন্তব্য করেছিলেন যে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হলেও দীর্ঘদিন ধরে অসহনীয় অবস্থায় থাকা একজন মানুষকে অনির্দিষ্টকাল এই যন্ত্রণার মধ্যে রেখে দেওয়া মোটেও ঠিক নয়।

এক্ষেত্রে আপনাদের জানিয়ে দিই, উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদের বাসিন্দা হরিশ রাণা ২০১৩ সালে একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। তখন তিনি পড়াশোনার জন্য চণ্ডীগড়ে থাকতেন। সেই সময় হোস্টেলের চারতলা থেকে পড়ে গিয়ে তাঁর মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছিল। তারপর থেকেই তিনি অচেতন অবস্থায় বেডে শুয়ে আছেন। এমনকি কোমাতেই রয়েছেন। আর দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থায় থাকার ফলে তাঁর শরীরে একাধিক খত সৃষ্টি হয়েছে, এবং মৃত্যু যন্ত্রণায় ভুগছেন তিনি।

আরও পড়ুন: জগন্নাথের উদ্যোগে রানাঘাট-গেদে-শিয়ালদায় একাধিক ট্রেন দিল রেল, দেখুন সময়সূচি

চিকিৎসকদের মতে, হরিশ রাণা বর্তমানে ১০০ শতাংশ প্রতিবন্ধকতার কবলে পড়েছেন, এবং সুস্থ হয়ে ওঠার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আর এমতাবস্থায় দীর্ঘদিন ধরে ছেলেকে অসহায় অবস্থায় দেখে তাঁর বাবা-মাও শেষ পর্যন্ত আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। তাঁরাই আদালতের কাছে ছেলের জন্য ইচ্ছামৃত্যুর অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। আর এইমসের চিকিৎসা প্রতিবেদনও জানানো হয়েছে যে, তাঁর সুস্থ হয়ে ওঠার কোনও রকম সম্ভাবনা নেই। সেই কারণেই আদালত এই বড়সড় রায়ের পথে হেঁটেছে।

Leave a Comment