সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: গোটা বিশ্বজুড়ে যখন যুদ্ধ আর মুদ্রাস্ফীতির কালো মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে, ঠিক তখনই বিশ্ববাজারকে চমকে দিয়ে রেকর্ড গড়ল ভারতীয় টাকা (Indian Rupee)। হ্যাঁ, আজ অর্থাৎ ২ এপ্রিল ভারতীয় মুদ্রার ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে দিনটি। কারণ, মার্কিন ডলারের (United States Dollar) বিপরীতে আজ এক ধাক্কায় টাকার মান ১.৮% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা কিনা ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসের পর সবথেকে বড় লাফ। গত কয়েকদিন ধরে ডলারের বিপরীতে একেবারে টাকার দাম তলানিতে ঠেকেছিল। কার্যত ৯৫ এর ঘর ছুঁইছুঁই। সেখানে আজ হঠাৎ করেই রকেটের গতিতে উত্থান। তবে এর পিছনে রয়েছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের মাস্টারস্ট্রোক।
আরবিআই-র বিরাট চাল
প্রসঙ্গত, শেয়ারবাজারের অস্থিরতা সত্ত্বেও ভারতীয় রুপিকে বাঁচানোর জন্য ১ এপ্রিল বড়সড় সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আরবিআই ব্যাংকগুলোর জন্য নন ডেলিভারিবল ফরওয়ার্ডসের দরজা কার্যত বন্ধ করে দেয়। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, অনেক বিনিয়োগকারী ভবিষ্যতে ডলারের দাম বাড়বে এই আশায় ফাটকা লেনদেন করছিল। যার ফলে বাজারে ডলারের চাহিদা তৈরি হয়েছিল। আরবিআই এই লেনদেনের লাগাম টানতেই ডলারের চাহিদা একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। এখন থেকে কোনও কোম্পানি তাদের বাতিল করা বিদেশী মুদ্রা সংক্রান্ত চুক্তি আর পুনরায় বুক করতে পারবে না।
রিজার্ভ ব্যাংকের নিয়ম কড়া হতেই ব্যাংক এবং বড় বড় সংস্থাগুলির মধ্যে ডলার বিক্রিতে ধুম লেগে যায়। যারা দাম বাড়ার আশায় ডলার জমিয়ে রেখে দিয়েছিল, তারা লোকসানের ভয়ে তড়িঘড়ি বাজারে ডলার ছাড়তে শুরু করে। যার ফলে বাজারে ডলারের যোগান বাড়ে আর টাকার মান শক্তিশালী হয়ে একেবারে ৯৩.১৭ এর স্তরে পৌঁছে যায়।
আরও পড়ুন: ৪০টি পণ্যের উপর শুল্ক প্রত্যাহারের ঘোষণা কেন্দ্রের
ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং অপরিশোধিত তেলের উদ্বেগ
উল্লেখ্য, টাকার এই শক্তিশালী হওয়া যে গোটা বিশ্ববাজারে তাৎপর্যপূর্ণ তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কারণ, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। যার ফলে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি একেবারে ১০৬ ডলার টপকে গিয়েছে। আর সাধারণত তেলের দাম বাড়লে টাকার দাম কমে। কিন্তু ভারতের অভ্যন্তরীণ আর্থিক সংস্কার আজ বিশ্ববাজারে সমস্ত চাপকেই একেবারে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে টাকার মান শক্তিশালী হওয়ার ফলে যে সাধারণ মানুষ সুফল পাবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বিশেষ করে বিদেশ থেকে আনা ইলেকট্রনিক্স পণ্য, গ্যাজেট এবং যন্ত্রাংশের দাম কিছুটা কমতে পারে। আর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লেও টাকা শক্তিশালী হওয়ার কারণে ভারতে আমদানিকারকদের খুব বেশি বাড়তি টাকা গুনতে হবে না। তাই পেট্রোল-ডিজেলের দাম আকাশছোঁয়া হওয়ারও কোনও আশঙ্কা নেই।