১৫ বছর কী করেছে? মমতাকে প্রাক্তন করার হুঙ্কার হুমায়ুনের, পাল্টা দিলেন কুণাল

Humayun Kabir

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: সামনেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন, আর তার আগেই SIR বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন ইস্যুকে নিয়ে বাংলায় উত্তাপ দিন দিন বেড়েই চলেছে, তার উপর মৃত বা ভুতুড়ে ভোটার নিয়ে তৃণমূল বিজেপির তরজা তো রয়েছেই। এমতাবস্থায় খবরের শিরোনামে ফের উঠে এল মুর্শিদাবাদে বাবরি মসজিদের শিলান্যাসের প্রসঙ্গ। সদ্য তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়া বিধায়ক হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করতেই গর্জে উঠলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ।

অনির্দিষ্টকালের জন্য সাসপেন্ড হুমায়ুন কবিরকে

উল্লেখ্য, বিগত কয়েকমাসে ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের একাধিক মন্তব্যে বেশ অস্বস্তিতে পড়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। বারবার শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু তবুও তাঁর মুখে দলবিরোধী মন্তব্য করতে শোনা যায়। এমনকি দলের বিরূদ্ধে গিয়েও সে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ তৈরি নিয়ে অনড় থেকেছেন। আর এই আবহে গত বৃহস্পতিবার, ভরতপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে অনির্দিষ্টকালের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এদিকে সাসপেন্ড হওয়ার পরই তৃণমূলকে একের পর এক হুঁশিয়ারি দিয়ে চলেছেন হুমায়ুনও। এবার টার্গেট হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আর তাতেই রাজনৈতিক পারদ বেশ বেড়েছে।

মমতার বিরুদ্ধে গর্জে উঠল হুমায়ুন

আজ, মুর্শিদাবাদের বেলডাঙায় বাবরি মসজিদে শিলান্যাসের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর ফের তীব্র তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ভরা সভার মাঝেই তিনি অভিযোগ করলেন, “১৫ বছরে সংখ্যালঘুরা কী পেয়েছে? যেখানে ২০১১ সালে সংখ্যালঘুদের আস্থায় ক্ষমতায় এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু “দিনের পর দিন মিথ্যাচার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী” তাঁর আরও অভিযোগ, “মুখ্যমন্ত্রী যা করবেন, সেটাই ঠিক। আর বাকিরা যা বলবে সেটাই ভুল! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এত অহঙ্কার। আমি তাঁকে প্রাক্তন করবই।” আর এবার সেই মন্তব্যের প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন কুণাল ঘোষ।

পাল্টা জবাব কুণাল ঘোষের

রিপোর্ট মোতাবেক ভরতপুরের প্রাক্তন বিধায়ক হুমায়ুন কবিরের হুশিয়ারির পরেই তাঁর অভিযোগকে সরাসরি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। তাঁর কথায়, “মন্দির বা মসজিদ তৈরির জন্য কাউকে সাসপেন্ড করা হয়নি। বাংলায় সকলেই মন্দির, মসজিদ, গির্জা কিংবা তাঁদের ধর্মের আরাধনার জায়গা করতেই পারেন। কিন্তু বিশেষ কোনও রাজনৈতিক দলের প্ররোচনা, যড়যন্ত্রে কেউ যদি ধর্মকে রাজনৈতিক মেরুকরণের হাতিয়ার করে তাহলে দল সেটা বরদাস্ত করবে না। তৃণমূল প্রতিটি ধর্মকে সম্মান করে।” তাঁর আরও অভিযোগ, “যদি কেউ দলবিরোধী কাজ করেন কিংবা সাংগঠনিকভাবে দলকে বিড়ম্বনায় ফেলার চেষ্টা করেন। সেক্ষেত্রে বিষয়টা আর ধর্মের বলে থাকে না।”

আরও পড়ুন: পুতিনের জন্য ছ’টি উপহার নরেন্দ্র মোদীর! তালিকায় রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এই সামগ্রীও

প্রসঙ্গত হুমায়ুন কবীরকে সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করতে গিয়ে সাংবাদিক বৈঠকে একাধিক অভিযোগ তুলেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। তিনিও বলেছিলেন, “ধর্ম নিয়ে রাজনীতি যারা করে, তাদের সঙ্গে দল কোনও সম্পর্ক রাখবে না।” এমনকি তিনি বৈঠকে সরাসরি প্রশ্ন তোলেন যে বেলডাঙায় কেন বাবরি মসজিদ তৈরি করার কথা বলা হল, আর তাতেই বিজেপির ইন্ধন রয়েছে বলে মনে করছে সকলে। তাঁর কথায়, “বিজেপির ইন্ধনের এই বিভেদের রাজনীতি করা হচ্ছে। যখন দেখল এসআইআর করে কিছু হচ্ছে না, তখন বিজেপি এই বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা করছে।”

Leave a Comment