সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ কেন্দ্র নয়, এবার দেশের একটি রাজ্য নিজেদের উদ্যোগে সেখানে হাইস্পিড রেল নেটওয়ার্ক (High-speed rail) তৈরি করার ঘোষণা করেছে। সবথেকে বড় কথা, সার্ভে এবং সব কাজ করে একবার রেললাইন তৈরি হয়ে গেলে, সেটার ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ২০০ কিমি বেগে ট্রেন ছুটতে পারবে। অর্থাৎ বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের থেকেঅ বেশি জোড়ে ট্রেন ছুটবে। আসলে ‘মেট্রোম্যান’ খ্যাত শ্রীধরণ এই রেল প্রোজেক্ট সম্পর্কে ঘোষণা করেছেন।
২০২৬ সালের বাজেটে কেরালার হাইস্পিড রেল নেটওয়ার্কের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দিষ্ট বরাদ্দ না থাকা সত্ত্বেও, শ্রীধরণ তার স্বপ্নের প্রকল্প সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা ব্যক্ত রয়েছেন। শ্রীধরন বিশ্বাস করেন যে কেরালার মতো রাজ্যের জন্য একটি আধুনিক এবং দ্রুত রেল নেটওয়ার্ক প্রয়োজন, এবং তিনি এই লক্ষ্যে কাজ চালিয়ে যাবেন। তার লক্ষ্য হল কেরালার উত্তর প্রান্ত থেকে দক্ষিণ প্রান্ত পর্যন্ত দূরত্ব মাত্র চার ঘন্টার মধ্যে অতিক্রম করা, যার জন্য তিনি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে সক্ষম ট্রেনের একটি নেটওয়ার্ক তৈরি করতে চান।
রেল করিডোর প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়ে গেল
মেট্রোম্যান নামে পরিচিত ই. শ্রীধরন সোমবার কেরালায় হাই-স্পিড রেল করিডোর প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন, যদিও এটি কেন্দ্রীয় বাজেটে অন্তর্ভুক্ত ছিল না। তিনি পোন্নানিতে একটি অফিস উদ্বোধন করেন। শ্রীধরণ বলেন, এই স্থানটি জনসাধারণের জন্য প্রকল্পটি বোঝার এবং তাদের উদ্বেগ প্রকাশের জন্য একটি যোগাযোগ কেন্দ্র হিসেবে কাজ করবে। তিনি বলেন যে প্রাথমিক পর্যায়ে, এই অফিসটি জনসাধারণকে প্রকল্পটি ব্যাখ্যা করতে এবং তাদের কৌতূহল দূর করতে ব্যবহার করা হবে।
Kerala Cabinet has approved in principle a 583 km RRTS corridor from Thiruvananthapuram to Kasaragod, replacing the SilverLine plan.
The 160-180 km/h elevated system will integrate with Metro networks, with Phase 1 (Thiruvananthapuram-Thrissur) starting in 2028 and funded… pic.twitter.com/F6TgTDIXhn
— Amαr
(@Amarrrrz) January 29, 2026
আরও পড়ুনঃ উধাও ট্রেনের আস্ত একটি কোচ, লাগেজ হাতে স্টেশনেই দাঁড়িয়ে রইলেন যাত্রীরা
১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে মালাপ্পুরম থেকে জনসাধারণের সাথে বৈঠক শুরু হবে। এরপর প্রস্তাবিত রুট বরাবর অন্যান্য জেলায়ও বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। অফিস খোলার সাথে সাথে প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়েছে। কর্মচারীরা পর্যায়ক্রমে দায়িত্ব নেবেন। ‘আমরা যা কিছু করি তা যেন মানুষের উপকারে আসে, সমস্যা তৈরি না করে। যদি সমস্যা দেখা দেয়, তাহলে আমাদের তা সমাধান করে এগিয়ে যাওয়া উচিত।’ বলেন ‘মেট্রোম্যান’।
এই প্রকল্পে ২২টি স্টেশনও অন্তর্ভুক্ত
তিনি বলেন, এপ্রিল মাসে ভিত্তিপ্রস্তর নির্মাণ কাজ শুরু হবে। প্রকল্পটিতে ২২টি প্রস্তাবিত স্টেশন রয়েছে এবং জুনের আগেই ভিত্তিপ্রস্তর নির্মাণ কাজ শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। জনসাধারণের আস্থার ওপর নির্ভর করে সার্ভের কাজ শুরু হবে। শ্রীধরণ বলেন, ‘যদি জনসাধারণের আস্থা অর্জন করা হয়, তাহলে ভয়ের কিছু নেই। তিনি আনুষ্ঠানিক আদেশের অপেক্ষা না করেই এগিয়ে যাবেন বলে জানান।
আরও পড়ুনঃ আকাশছোঁয়া থেকে মাটিতে নামল সোনা-রুপোর দাম, মুখে হাসি মধ্যবিত্তের
তিরুবনন্তপুরম থেকে কান্নুর পর্যন্ত প্রস্তাবিত রেল লাইনের সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার। এটি রেলপথ মন্ত্রক বাস্তবায়ন করবে, যা বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট বা ডিপিআর প্রস্তুত হওয়ার পর রাজ্য সরকারের মতামত নেবে। তবে, শ্রীধরণ কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদনের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী। কেরালা সরকার বর্তমানে একই ধরণের করিডোর বরাবর একটি আঞ্চলিক দ্রুত পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে।
(@Amarrrrz)