সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে রামনবমী কত তারিখে পড়ছে (Ram Navami 2026)? কী রয়েছে দিনক্ষণ এবং তিথি নক্ষত্র? নবমী তিথি শুরু হবে কখন আর কখন ছাড়াবে? এমনকি সূর্যোদয়, সূর্যাস্ত থেকে শুরু করে পুরো নিয়মকানুন কী আছে? আসলে রামনবমী প্রতি চৈত্র মাসের শুক্লপক্ষের রবমী তিথিতে বিশেষ আরম্বরের সঙ্গেই পালিত হয়। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই দিনটিতে ভগবান রাম মা কৌশল্যার পুত্র হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাই ভগবান রামের অবতার হিসেবে এই দিনটি পালিত হয়। বিস্তারিত জানতে অবশ্যই পড়ুন প্রতিবেদনটি।
রাম নবমী ২০২৬ দিনক্ষণ | Date of Ram Navami 2026 |
বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুযায়ী, চৈত্র মাসের শুক্ল পক্ষের নবমী তিথি অর্থাৎ রাম নবমী পড়বে ২৬ মার্চ। তবে তিথি শেষ হবে ২৭ মার্চ। অর্থাৎ ২৬ মার্চ রাম নবমী পালিত হবে। অন্যদিকে আমরা যদি বাংলা ক্যালেন্ডার দেখি, তাহলে দেখতে পাব রাম নবমী পড়ছে ২০৩২ সালের ১১ চৈত্র, বৃহস্পতিবার।
সময়সূচি ও তিথি নক্ষত্র কী রয়েছে?
পঞ্জিকা বলছে, নবমী তিথি শুরু হচ্ছে ২৬ মার্চ সকালে ১১:৪৮ মিনিটে এবং নবমী তিথি শেষ হচ্ছে ২৭ মার্চ সকাল ১০:০৬ মিনিটে। এদিকে রাম নবমীর মধ্যাহ্ন মুহূর্ত রয়েছে সকাল ১১:১৩ মিনিট থেকে রাত ১:৪১ মিনিট পর্যন্ত। ব্রহ্ম মুহূর্ত রয়েছে ভোর ৪:৪৪ মিনিট থেকে ভোর ৫:৩০ মিনিট পর্যন্ত। বিজয় মুহূর্ত রয়েছে দুপুর ২:২০ মিনিট থেকে দুপুর ৩:১৯ মিনিট পর্যন্ত এবং গোধূলি মুহুর্তে রয়েছে সন্ধ্যা ৬:৩৫ মিনিট থেকে সকাল ৫:৫৮ মিনিট পর্যন্ত।
অন্যদিকে পঞ্জিকা অনুযায়ী আমরা জানতে পারছি, এদিন সূর্যোদয় হবে সকাল ৬:১৭ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত যাবে সন্ধ্যা ৬:৩৬ মিনিটে। পাশাপাশি চন্দ্রোদয় হবে দুপুর ১:০০ টায় এবং চন্দ্রাস্ত যাবে ২৮ মার্চ সকাল ৩:২১ মিনিটে।
কেন পালিত হয় রাম নবমী?
রাম নবমী হল হিন্দু ধর্মের একটি প্রধান উৎসব। ভগবান বিষ্ণুর সপ্তম অবতার শ্রী রামের জন্মতিথি হিসেবেই চৈত্র মাসের শুক্র পক্ষের নবমী তিথির দিন উদযাপন করা হয় এটি। সত্য এবং ন্যায়ের প্রতীক হিসেবে পালিত হয় এই দিনটি, যা অশুভ শক্তির উপর শুভ শক্তির বিজয়ের বার্তা দিয়ে থাকে। আর এই দিনটিতে রামায়ণ পাঠ, পূজা এবং রথযাত্রার মাধ্যমে অযোধ্যার রাজা দশরথ এবং রানী কৌশক্যার পুত্র রামের আবির্ভাব স্মরণ করা হয়।
আরও পড়ুন: ৩ মার্চ রাতের আকাশে দেখা যাবে ‘ব্লাড মুন!’ কোথা থেকে দৃশ্যমান হবে চন্দ্রগ্রহণ?
রাম নবমীর আচারবিধি
রাম নবমী পালন করার জন্য অবশ্যই কিছু আচারবিধি মেনে চলতে হয়। সেগুলি হল—
- সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে উঠে স্নান করে নতুন বা পরিস্কার বস্ত্র পরিধান করে উপবাস করতে হয়। অনেকে নির্জলা বা ফল জল খেয়ে পুরো দিন উপোস করে থাকেন।
- এদিন রামচন্দ্র, সীতা দেবী, লক্ষণ এবং হনুমানজির পূজা করতে হয়।
- জল, ফুল, ধূপ, প্রদীপ, তুলসীপাতা ইত্যাদি দিয়ে পূজা করলে ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যায়।
- রাম নবমীর দিন ‘ওম শ্রী রামচন্দ্রায় নমঃ’ মন্ত্রটি জপ করা অত্যন্ত শুভ বলেই মনে করা হয়। এছাড়া রামায়ণ বা রামরক্ষা স্রোত পাঠ করার নিয়ম রয়েছে।
- রামের জন্ম স্মরণ করে অনেকেই বাড়িতে বা মন্দিরে ছোট রামের মূর্তিকে দোলনায় দোল খাওয়ান।
- তবে পুজো এবং আরতির পর প্রসাদ খেয়ে বা সারাদিন উপবাসের পর সন্ধ্যাবেলা ফল বা মিষ্টি খেয়ে ব্রত ভঙ্গ করতে হয়।
রাম নবমীর দিন খান এই বিশেষ খাবার
রাম নবমীর বিশেষ দিনটিতে ভক্তরা উপবাস রেখে সাত্বিক নিরামিষ আহার গ্রহণ করে থাকে। তবে এই দিন ভগবান রামকে ভোগ হিসেবে সাধারণত ক্ষীর যুক্ত পানীয়, মসলাদার ঘোল, ছোলা ইত্যাদি উৎসর্গ করতে হয়। এমনকি দুপুরবেলায় লুচি, আলুভাজা বা নিরামিষ তরকারি খাওয়া যেতে পারে।