৪০ লক্ষ না ২০ কোটি? মালদার ১০০ দিনের কাজের দুর্নীতিতে তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ফের মালদায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ উঠে এল খবরের শিরোনামে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই দুর্নীতির তদন্ত নিয়ে একাধিক বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসছিল। এমতাবস্থায় গতকাল, বৃহস্পতিবার ফের রাজ্যকে এই দুর্নীতি প্রসঙ্গে অবিলম্বে FIR করে তদন্তের নির্দেশ দিল হাইকোর্টের (Calcutta High Court) প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ। ভোটের আবহে ফের নাজেহাল অবস্থা প্রশাসনের।

মালদায় ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতি

বাংলায় ১০০ দিনের কাজের প্রকল্প নিয়ে প্রথম থেকেই কেন্দ্র বেলাগাম দুর্নীতির অভিযোগ তুলে এসেছে রাজ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে। পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, মালদহ, দার্জিলিং মতো একাধিক জেলায় সমীক্ষা করে দুর্নীতির প্রমাণ উঠে এসেছিল। সেই অভিযোগেই বিগত কয়েক বছর ধরে কেন্দ্র ১০০ দিনের কাজের টাকা বন্ধ করে দেয়। আর এবার প্রকাশ্যে এল আরও এক দুর্নীতির খবর। ইটিভি বাংলার রিপোর্ট অনুযায়ী জানা গিয়েছে, মালদার মহারাজপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের রতুয়া-২ নম্বর ব্লকে আবেদনকারী স্থানীয়দের জব কার্ড থাকার সত্ত্বেও কাজ পাচ্ছিল না। এই নিয়ে স্থানীয় পঞ্চায়েতকে মৌখিক ভাবে জানানো হলে পঞ্চায়েতের তরফে বলা হয়, এলাকার সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে ৷

দুর্নীতির অভিযোগ স্বীকার জেলা প্রশাসনের

১০০ দিনের কাজের প্রকল্প মূলত এলাকার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য করা হয় তার সঙ্গে কর্মসংস্থানের যোগান দেয়া হয়। কিন্তু মালদার এই এলাকায় উন্নয়নমূলক কাজ সেই অর্থে তেমন কিছু হয়নি বলেই দাবি আবেদনকারীদের। এই ব্যাপারে তাই স্থানীয় বিডিওর কাছে অভিযোগ জানালে বিডিও এলাকার পঞ্চায়েত প্রধানকে জানাতে বলেন৷ কিন্তু কোথাও সমস্যার কোনও সুরাহা না পেয়ে বাধ্য হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন গ্রামবাসীরা৷ আর তখনই দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ্যে আসে। ইতিমধ্যে এই অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। তারা আদালতে রিপোর্ট দিয়ে জানিয়েছেন যে এই কাজে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার বেনিয়ম হয়েছে৷ তবে এই দাবি মানতে নারাজ মামলাকারীরা।

আরও পড়ুন: বাজি কারখানার বিস্ফোরণে কাঁপল পুরুলিয়া, প্রশাসনকে কাঠগড়ায় তুললেন অমিত মালব্য

রিপোর্ট জমা দেওয়া নির্দেশ রাজ্য সরকারকে

মালদায় ১০০ দিনের কাজে দুর্নীতির প্রসঙ্গে মামলাকারীদের দাবি, ২০ কোটির উপর দুর্নীতি হয়েছে ৷ যদিও এর আগে পার্শ্ববর্তী পঞ্চায়েত শ্রীপুর-২ এ জেলাশাসক তদন্ত করে মোট ৬০ লক্ষ টাকা দুর্নীতির কথা বললেও CAG তদন্তের পর দেখা যায় ১৭ কোটির দুর্নীতি হয়েছে। এক্ষেত্রে একই অবস্থা বলে মনে করছে বিচারক। তাই গতকাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল ও বিচারপতি পার্থ সারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলা ওঠে। এবং সেখানে ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানায় যে ফের রাজ্যকে অবিলম্বে FIR করে তদন্ত করতে হবে। এবং আগামী ৯ মার্চের মধ্যে রাজ্যকে রিপোর্ট দিতে হবে আদালতে।

Leave a Comment