৪ লক্ষ নতুন নাম! ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পের প্রথম কিস্তি কবে ঢুকবে? এল বড় আপডেট

Banglar Bari Scheme

সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: সাধারণ মানুষের মাথার উপর পাকা ছাদ তৈরি করে দেওয়ার জন্য পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প হল বাংলার বাড়ি (Banglar Bari Scheme)। রাজ্যের গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের গৃহহীন ও কাঁচা বাড়িতে বসবাসকারী পরিবারগুলোর জন্য এই প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরেই ভরসার প্রতীক। তবে সম্প্রতি অনুদানের টাকা কবে মিলছে এই প্রশ্ন ঘিরে তৈরি হচ্ছে গ্রাহকদের মধ্যে কৌতুহল। মনে করা হচ্ছিল, জানুয়ারি মাসের শুরুতেই উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকবে। তবে বাস্তবে অনেকটাই দেরি হচ্ছে। কী বলছে প্রশাসন?

যুক্ত হল নতুন উপভোক্তা

আসলে প্রথমে রাজ্য সরকারের পরিকল্পনা ছিল আনুমানিক ১৬ লক্ষ ৫ হাজার পরিবারকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের টাকা দেওয়া হবে। তবে পরবর্তী ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, বহু পরিবার এখনও পর্যন্ত গৃহহীন বা ঝুঁকিপূর্ণ কাঁচা বাড়িতে বসবাস করছে। বিশেষ করে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করা নিজেদের সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন তারা। তাদের অভিযোগ যাচাই-বাছাই করার পর নতুন করে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ায় প্রায় ৪ লক্ষ নতুন উপভোক্তার নাম যুক্ত হয়েছে। ফলত, সব মিলিয়ে এখন এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে চলেছে মোট ২০ লক্ষ ৫ হাজার পরিবার।

টাকা দিতে কেন দেরি হচ্ছে?

আসলে উপভোক্তাদের সংখ্যা হঠাৎ করে এতটা বেড়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবে অতিরিক্ত বাজেট বরাদ্দের প্রয়োজন পড়ছে।আর প্রশাসন সূত্রে খবর, পঞ্চায়েত দফতর ইতিমধ্যেই বাড়তি অর্থের প্রস্তাব পাঠিয়েছে অর্থ দফতরের কাছে। অর্থ দফতরের অনুমোদন মিললেই টাকা ছাড়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। সরকারের মূল লক্ষ্য একটাই- পুরনো এবং নতুন সমস্ত উপভোক্তাকে একসঙ্গে প্রথম কিস্তির টাকা দেওয়া। সেই কারণেই কিছুটা দেরি হচ্ছে।

বলে রাখি, বাংলার বাড়ি প্রকল্পে প্রতিটি যোগ্য পরিবার মোটে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা করে অনুদান পায়। আর টাকা দেওয়া হয় মূলত দুটি কিস্তিতে। প্রথম কিস্তিতে ৬০ হাজার টাকা আর দ্বিতীয় কিস্তিতে আরও ৬০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়। এই অর্থ সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ট্রান্সফার করা হয়। তবে অবশ্যই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ড লিঙ্ক করা থাকতে হবে।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশে খুন আরেক হিন্দু, ঝামেলা থামাতে যাওয়ায় হত্যা হোটেল ব্যবসায়ী লিটন চন্দ্র ঘোষকে

কবে নাগাদ ঢুকবে প্রথম কিস্তির টাকা?

বর্তমানে প্রশাসনিক পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে, সে থেকে অনুমান পাওয়া যাচ্ছে যে আনুমানিক জানুয়ারি মাসের চতুর্থ সপ্তাহ বা শেষের দিকে প্রথম কিস্তির টাকা ছাড়া হতে পারে। সম্ভাবনা রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নবান্ন বা ভার্চুয়াল সভা করে একযোগে ২০ লক্ষ ৫ হাজার উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে ৬০ হাজার টাকা করে পাঠাবেন। আর একই সঙ্গে বাড়ি তৈরির অনুমোদন সংক্রান্ত নথি প্রদান করা হতে পারে। এখন দেখার, কবে এই প্রকল্পের প্রথম কিস্তির টাকা ঢোকে।

Leave a Comment