৫টার মধ্যে জবাব চাই! রাষ্ট্রপতি মুর্মুর দার্জিলিং সফরে অব্যবস্থা নিয়ে নবান্নকে কড়া চিঠি

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: ভোটের কারণে উত্তপ্ত বঙ্গ রাজ্য রাজনীতি, একাধিক ইস্যু নিয়ে তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যে সংঘাত লেগেই চলেছে। আর এই আবহে বাংলায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Draupadi Murmu) সভা ঘিরে বিতর্ক যেন আরও দানা বাধল। জানা গিয়েছে বাংলার মুখ্যসচিবের কাছে এবার সরাসরি রিপোর্ট চাইলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব। রিপোর্টের মাধ্যমে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন রাষ্ট্রপতির সভার স্থানবদল করা হয়েছে। বেঁধে দেওয়া হয়েছে সময়সীমা।

রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে মহা বিতর্ক

গতকাল অর্থাৎ শনিবার শিলিগুড়িতে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দিতে এসেছিলেন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছন রাষ্ট্রপতি। শুক্রবার বিকেলে উত্তরবঙ্গে আসার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু কিছু কারণে তাঁর সফরসূচির পরিবর্তন হয়। আগের অনুষ্ঠান সূচি অনুযায়ী, বিধাননগরে আন্তর্জাতিক সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দেওয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে গোঁসাইপুর থেকে ভার্চুয়াল মাধ্যমে সাঁওতাল কনফারেন্সে যোগ দেন তিনি। কিন্তু পরে এই স্থান পরিবর্তন নিয়েই অসন্তুষ্ট হন রাষ্ট্রপতি মুর্মু। রাজ্যের ব্যবস্থাপনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন।

মুখ্য সচিবের কাছে রিপোর্ট চাইল কেন্দ্র

রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, “আমিও বাংলার মেয়ে। আমাকে বাংলায় আসতেই দেওয়া হয় না। মমতাদি আমার ছোট বোন। জানি না, আমার উপর কী রাগ। যাই হোক… কোনও অভিযোগ নেই। কোনও ক্ষোভ নেই। উনি ভাল থাকুন, আপনারাও ভাল থাকুন।” এমতাবস্থায় গতকাল রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সফরে কী কী ঘটেছে, স্থানবদল কেন করা হয়েছে, প্রশাসন কী কী পদক্ষেপ করা হয়েছে, সবটাই লিখিতভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে কেন্দ্রের তরফে। রিপোর্ট মোতাবেক, আজ অর্থাৎ রবিবার, সকালে রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর কাছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রসচিব গোবিন্দ মোহন এই বিষয়ে একটি নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন। যেখানে বলা হয়েছে, আজ বিকেল পাঁচটার মধ্যেই রিপোর্ট জমা দিতে হবে।

রাষ্ট্রপতি সফর নিয়ে কী বলছে প্রশাসন?

উত্তরবঙ্গ সফরে এসে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর মন্তব্যকে ঘিরে যে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তাই নিয়ে রাজ্য প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, শিলিগুড়ির যে অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি যোগ দিয়েছিলেন সেটি ছিল ‘ইন্টারন্যাশনাল সান্তাল কাউন্সিল’ নামে একটি বেসরকারি সংগঠনের উদ্যোগ, এবং সেখানে প্রোটোকল ভাঙার কোনও ঘটনা ঘটেনি। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী বিজেপিকে টার্গেট করে বলেন, “মাননীয়া রাষ্ট্রপতিকে আমরা সম্মান করি। তাঁকে দিয়েও পলিটিক্স বেচতে পাঠানো হয়েছে! বিজেপির এজেন্ডা বেচতে পাঠানো হয়েছে!’’

আরও পড়ুন: যুবসাথীর চক্করে কত হাজার কোটির ধাক্কা রাজ্য সরকারের? ভয়ঙ্কর রিপোর্ট দিল RBI

রাষ্ট্রপতির উত্তরবঙ্গ সফর সংঘাতকে নিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্বয়ং। রাষ্ট্রপতির অপমান করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন তিনি। প্রথমে ইংরেজিতে, তার পরে বাংলায় এবং পরে অলচিকি লিপিতেও এই ঘটনার নিন্দা করেন। পাশাপাশি দার্জিলিঙের বিজেপি সাংসদ রাজু বিস্তা বলেন, “রাজ্যের গাফিলতির কারণে এই পরিস্থিতি, এটা দেশের সাংবিধানিক প্রধানকে অপমান, আদিবাসী-সাঁওতাল সমাজকে অপমান।”

Leave a Comment