সহেলি মিত্র, কলকাতাঃ এপ্রিলের শুরুতেই তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া (Indonesia Earthquake)। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.৪। ভেঙে পড়েছে বহু মানুষের ঘরবাড়ি। এদিকে আতঙ্কে রাস্তায় নেমে এসেছেন আমজনতা। মৃত্যু হয়েছে মানুষের বলে খবর। এহেন ঘটনায় শিহরিত সকলেই। চলুন আরও বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইন্দোনেশিয়া
জানা গিয়েছে, আজ বৃহস্পতিবার ইন্দোনেশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় মোলুকা সাগরে ৭.৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এই কম্পনে বহু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং একটি সুনামির সতর্কতা অবধি জারি করা হয়েছে। কর্মকর্তা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এই দুর্যোগে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা (বিএমকেজি) জানিয়েছে, পাঁচটি বিভিন্ন স্থানে সুনামির ঢেউ রেকর্ড করা হয়েছে। উত্তর সুলাওসির উত্তর মিনাহাসায় সর্বোচ্চ ঢেউটির উচ্চতা ছিল ০.৭৫ মিটার (প্রায় ২.৪৬ ফুট)। ভূমিকম্পের পর ১১টি আফটারশক অনুভূত হয়, যার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালীটির মাত্রা ছিল ৫.৫। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
মৃত ১
বিএমকেজি প্রধান তেউকু ফয়সাল ফাথানি এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, প্রাথমিক মডেলিংয়ে ০.৫ মিটার থেকে ৩ মিটার (১.৬ থেকে ৯.৮ ফুট) পর্যন্ত ঢেউয়ের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সংস্থাটি জনসাধারণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। উত্তর সুলাওয়েসি পুলিশের উপ-প্রধান আউই সেটিওনো সাংবাদিকদের জানান যে, মানাদো এলাকায় স্থানীয় ক্রীড়া কর্তৃপক্ষের একটি ভবনের একাংশ ধসে পড়েছে এবং এর ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মর্মান্তিকভাবে একজন নিহত হয়েছেন। যদিও মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুনঃ মধ্যবিত্তদের পকেটে ফের চাপ দিয়ে বাড়ল সোনা, রুপোর দাম! আজকের রেট
সাধারণ মানুষ জানান, কম্পন এতটাই তীব্র ছিল যে লোকজন আতঙ্কে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। কম্পনের ফলে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলে খবর। বিটুং এবং টারনাটে শহরে ১০ থেকে ২০ সেকেন্ড ধরে ভূমিকম্পটি খুব তীব্রভাবে অনুভূত হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলটি ফিলিপাইনের উপকূল থেকে প্রায় ৫৮০ কিলোমিটার (৩৬০ মাইল) দক্ষিণে এবং মালয়েশিয়ার সাবাহ থেকে ১,০০০ কিলোমিটার (৬২১ মাইল) দূরে সমুদ্রে অবস্থিত ছিল। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় দুর্যোগ সংস্থা জনগণকে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানিয়েছে।