প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: এসএসসির (WBSSC) জট যেন কিছুতেই কাটছে না। এসএসসির একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ তালিকা প্রকাশ্যে আসতেই ব্যাপক ‘গরমিল’-এর অভিযোগ উঠে আসছে। একদিকে চলছে রাস্তাঘাটে তুমুল আন্দোলন অন্যদিকে মামলা উঠেছে কলকাতা হাইকোর্টে। আশা করা যাচ্ছে আগামী ২৮ নভেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি অমৃতা সিনহার বেঞ্চে সেই মামলার শুনানি হতে পারে। এমতাবস্থায় আজ থেকেই শুরু হয়ে গেল ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া।
এসএসসির বিরুদ্ধে হাইকোর্টে উঠল দুটি মামলা
সম্প্রতি স্কুল সার্ভিস কমিশনের একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ইতিমধ্যেই সেই রেজাল্টের উপর হাইকোর্টে কমপক্ষে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। একটি মামলায় অভিযোগ তোলা হয়েছে, একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকদের ইন্টারভিউয়ের যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তাতে চিহ্নিত দাগি অযোগ্য শিক্ষকদের নাম আছে। এবং অপর মামলায় দাবি করা হয়েছে যে প্রাথিমক স্কুলে চাকরি করেছেন এমন অনেকেই শিক্ষকতার অভিজ্ঞতার নিরিখে অতিরিক্ত ১০ নম্বর পেয়ে গিয়েছেন। সেক্ষেত্রে কেন বাদ পড়বে ফ্রেশাররা প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ইতিমধ্যেই ওই দুটি মামলাই গ্রহণ করা হয়েছে হাইকোর্টে। শীঘ্রই হাইকোর্টে শুনানি হবে বলে জানানো হয়েছে আইনজীবী মহলের তরফে।
কাট-অফ মার্কস নিয়ে বিরোধিতা
আনলনকারীরা এসএসসির বিরুদ্ধে শুধু মামলা করেই ক্ষান্ত হননি তাঁরা তাদের সকল দাবি তুলে ধরে পথে নেমেছেন আন্দোলন করতে। ফিট শনিবার সন্ধ্যায় একাদশ ও দ্বাদশের ইন্টারভিউয়ের লিস্ট প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু সেই লিস্ট নিয়ে তৈরি হয়েছে ঘোর বিপদ। ফ্রেশার্সরা জানিয়েছেন, ৬০-র মধ্যে ৬০, ৭০-র মধ্যে ৭০ পেয়েও SSC-র একাদশ দ্বাদশের ইন্টারভিউয়ে ডাক পাওয়া যায়নি। কাট-অফ মার্কস নিয়ে তৈরি হয়েছে বিরোধিতা। মোট ৮০ নম্বরের ভিত্তিতে ইন্টারভিউ লিস্ট তৈরি করা হয়েছে। ৮০ নম্বরের মধ্যে পরীক্ষার ৬০ ধরা হয়েছে লিখিত পরীক্ষার জন্য। শিক্ষাগত যোগ্যতার জন্য ১০ নম্বর বরাদ্দ করা হয়েছে। বাকি ১০ নম্বর যোগ করা হয়েছে অভিজ্ঞতার জন্য।আর তাই নিয়েই তৈরি হয়েছে জটিলতা।
আরও পড়ুন: দাঁতনে নতুন সেতু, দুর্ভোগ কমবে গ্রামবাসীদের, শিলন্যাস করলেন জুন মালিয়া
নতুন চাকরিপ্রার্থীদের নিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু জানিয়েছেন যে, “নতুন চাকরিপ্রার্থীরা কী চান, তা পরিষ্কার করে এখনও স্কুল সার্ভিস কমিশনের কাছে কিছু জানাননি। আগে অভিযোগ জমা পড়ুক, তা পর তা নিয়ে আলোচনা হবে। তবে যোগ্যদের জন্য বাড়তে পারে শূন্যপদ। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মূলত ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের পরিস্থিতি বিবেচনা করে মন্ত্রিসভা সব দিক খতিয়ে দেখবে। ‘যোগ্য’রা সত্যি কেউ যদি সত্যি বাদ যায় তাহলে দেখা যাবে তাঁদের প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল।” প্রসঙ্গত, আজ থেকে নথি যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৫টি আলাদা-আলাদা টেবিল আছে। সেখানে নথি যাচাই করা হচ্ছে। জনাব হয়েছে আগামী ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ের প্রার্থীদের ডকুমেন্ট ভেরিফিকেশনের প্রক্রিয়া চলবে।