ইন্ডিয়া হুড ডেস্ক: ২০১৪ সালে প্রাথমিকে নিয়োগের পরীক্ষায় আসল OMR শিট নষ্ট করা হয়েছে বলে হাই কোর্টে আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছিল প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। পর্ষদ এও জানিয়েছিল যে আসল প্রতিলিপি নষ্ট করা হলেও পরিবর্তে তার ডিজিটাইজড তথ্য রয়েছে। পরীক্ষার্থীদের OMR শিট বা উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য তাই এস বসু রায় অ্যান্ড কোম্পানি নামের একটি সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তাঁরাই শিট স্ক্যান করেছে। সেই সময় বিচারপতি পদে ছিলেন অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। তখন তিনিই এই মামলার দায়ভার CBI কে দিয়ে দেন।
OMR শিট নিয়ে এবার বড় আপডেট CBI এর
কিন্তু বর্তমানে অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বিচারকের পদ ছেড়ে দেওয়ায় সেই মামলার দায়ভার গ্রহণ করেন বিচারপতি মান্থা। আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার আদালতে CBI এর OMR শিট নিয়ে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা ছিল। সেই হিসেবে রিপোর্ট জমা দেয় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। তবে, প্রস্তাবিত রিপোর্টে একদমই সন্তুষ্ট নয় উচ্চ আদালত।
তিনি জানান, ‘ওই সব OMR শিট স্ক্যান করা হয়েছে বলে দাবি করেছে পর্ষদ। স্ক্যান করলে একটি হার্ড ডিস্কে তা অবশ্যই থাকবে। আপনাদের কাছে কি সেই হার্ড ডিস্ক রয়েছে? যদি হার্ড ডিস্কও নষ্ট করে দেওয়া হয়, তবে সেই বিষয়টিকেও তদন্তের আওতায় আনতে হবে।’ এছাড়াও বিচারপতি আরও বলেন, ‘হার্ড ডিস্ক নষ্ট হলেও সার্ভারে অরিজিনাল ডেটা থাকা দরকার। কোর্টে সেই সব তথ্য জানাতে হবে CBI কে। যদি সেই তথ্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা জানাতে ব্যর্থ হয় তাহলে বুঝতে হবে তদন্ত ভুল পথে চলছে।’
CBI এর প্রতি ক্ষোভ উগরে দিল বিচারপতি
বিচারপতির মন্তব্যের ভিত্তিতে আদালতে CBI এর দাবি, হার্ড ডিস্ক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছিল। তাতে ডিজিটাইজড তথ্য রয়েছে। যা সহজেই পরিবর্তন করা সম্ভব। OMR শিটের আসল তথ্য নষ্ট করা হয়েছে। এমনকি তাঁরা এও দাবি করেন যে মেটাডেটাও মুছে ফেলা হয়েছে। এরপরেই বিচারপতি পালটা মন্তব্য করেন, ‘মেটাডেটা কখনওই মুছে ফেলা সম্ভব নয়। এর ডিজিটাল ছাপ রয়েই যায়। যা মোছা যায় না।’ তাই আগামী শুক্রবার ওই বিষয়ে সমস্ত তথ্য জমা দিতে হবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI কে। ওই দিনই OMR শিট মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।