রাজ্যে ফিরে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানালেন সোনালি খাতুন! দিল্লি নিয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা শেয়ার

Sonali Khatun

প্রীতি পোদ্দার, কলকাতা: বাংলায় কথা বলায় বাংলাদেশি বলে দাগিয়ে সোনালি (Sonali Khatun) ও তাঁর নাবালক ছেলেকে পাকড়াও করেছিল দিল্লি পুলিশ। সঙ্গে সঙ্গে BSF ‘পুশ ব্যাক’ করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছিল তাঁকে এবং গোটা পরিবারকে। তারপর চলে দীর্ঘ লড়াই। অবশেষে সেই যুদ্ধ জয় করে দেশে ফিরলেন সোনালি বিবি। শনিবার মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুল্যান্সেই বীরভূমের রামপুরহাটে পাইকরের বাড়িতে রওনা হন তিনি। অ্যাম্বুল্যান্সে ওঠার আগে সোনালি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও ধন্যবাদ জানালেন।

কেন্দ্রের পুশ ব্যাক নিয়ে সওয়াল তৃণমূলের

উল্লেখ্য, কেন্দ্রের পুশ ব্যাকের এই সিদ্ধান্তে প্রথম থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস একাধিক বিরোধিতা করেছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তে তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। এমনকি বাংলাদেশে সোনালি খাতুনকে দেশে ফেরানো নিয়ে কেন কেন্দ্র গড়িমসি করছে, তা নিয়েও প্রকাশ্যে সওয়াল করেছিলেন তিনি। যদিও সুপ্রিম কোর্টও কেন্দ্রকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছিল যে সোনালিকে যেন দ্রুত ফেরানো হয়, অবশেষে অপেক্ষার অবসান হল। আজ অর্থাৎ শনিবার মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুল্যান্সে করে বীরভূমের রামপুরহাটে পাইকরের বাড়িতে রওনা দিলেন সোনালি।

মুখ্যমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা সোনালির

চলতি বছর ১৭ জুন দিল্লি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন সোনালি, সোনালির স্বামী দানীশ, আট বছরের ছেলে সাবির, পাইকরের সুইটি ও তাঁর দুই ছেলে ইমাম, কুরবান। বাংলাদেশের চাঁপাই নবাবগঞ্জে বেশ কয়েক মাস জেলবন্দি থাকার পরে শুক্রবার মালদার মহদিপুর স্থলবন্দর দিয়ে ফেরানো হয় সোনালি ও তাঁর ছেলেকে। বাকি চার জন বাংলাদেশেই রয়েছেন। শুক্রবার রাতে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ট্রমা বিভাগে চিকিৎসাধীন ছিলেন সোনালি ও তাঁর ছেলে। দেশে ফিরেই তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন এবং প্রকাশ্যে আনলেন বাংলাদেশে কাটানো ভয়াবহ দিনগুলির অভিজ্ঞতা।

আরও পড়ুন: ফাইনাল জিতে মোহনবাগানের কাছে শিল্ড হারের যন্ত্রণা কাটাতে চান ইস্টবেঙ্গল তারকা

শুক্রবার মালদহ সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরেন সোনালি ও তাঁর নাবালক পুত্র। সোনালি বিবি বলেন, “ফিরে এলাম। মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ। রাজ্যসভার তৃণমূল সাংসদ সামিরুল ইসলামকেও ধন্যবাদ জানাই। বাংলাদেশে অনেক কষ্টে ছিলাম। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টাকা পাঠিয়েছিলেন। তবে বাংলাদেশ পুলিশ কোনও অত্যাচার করেনি। আমি আর কোনও দিন দিল্লি যাব না।” তবে এই মুহূর্তে সোনালী এবং তার চার বছরের নাবালককে ফেরানো হলেও এখনও বাংলাদেশে আটকে সোনালির স্বামী-সহ সুইটি বিবি ও তাঁর পরিবার। তাঁদের কবে দেশে ফেরানো হবে তা নিয়ে বাড়ছে ধোঁয়াশা। এদিকে আদালতের পর্যবেক্ষণ কাউকে অনুপ্রবেশকারী মনে হলে সঙ্গে সঙ্গে পুশব্যাক ঠিক নয়। তাই বিষয়টি খতিয়ে দেখে তবেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

Leave a Comment