সৌভিক মুখার্জী, কলকাতা: দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে (Indian Forex Reserve) আবারও বিরাট ফাটল। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার প্রকাশিত সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী, ২৮ নভেম্বর শেষ হওয়া সপ্তাহে ভারতের ফরেক্স রিজার্ভ ১.৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার কমে ৬৮৬.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এমনকি এর আগের সপ্তাহেও রিজার্ভ হ্রাস পেয়েছিল ৪.৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। আর টানা পতনের ফলে সামগ্রিক রিজার্ভের উপর পড়ছে বিরাট চাপ।
রিপোর্ট অনুযায়ী, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ভয়াবহ পতন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, রুপির বিপরীতে ডলারের শক্তিশালী অবস্থান এবং বাজারে বিনিয়োগের প্রবাহ এর পিছনে মূল কাজ করছে। আসলে সম্প্রতি ভারতীয় মুদ্রার দাম মার্কিন ডলারের বিপরীতে একেবারে তলানিতে ঠেকেছে। সেজন্যই হঠাৎ করে হ্রাস পাচ্ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ।
কোন খাতে কতটা কমল রিজার্ভ?
আসলে ফরেক্স রিজার্ভের সবথেকে বড় অংশ বৈদেশিক মুদ্রা। আর এবারের পতনের মূল কারণ এটিই। কারণ, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উইকলি স্ট্যাটিসটিকাল সাপ্লিমেন্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে ৩.৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৫৫৭ বিলিয়ান মার্কিন ডলার। অন্যদিকে সোনার মজুদ বেড়েছে ১.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এখন তা দাঁড়িয়েছে ১০৫.৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে।
আরও পড়ুন: অবস্থা গুরুতর, ঢাকায় নামছে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স! লন্ডনের পথে খালেদা জিয়া
হ্যাঁ, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমলেও সোনার মজুদ অনেকটাই বেড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম দিনের পর দিন ঊর্ধ্বগতিতে ঠেকছে। ফলত নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে এখন সোনাকেই সবাই বেছে নিচ্ছে। আর বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক চাপ, মুদ্রাস্ফীতি থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় অনেক দেশ বৈদেশিক মুদ্রার বদলে এখন সোনার মজুদ বাড়ানোর চেষ্টা করছে। আর ভারতও সেই খাতে এবার শক্তিশালী অবস্থান করছে ।তবে যতদিন না পর্যন্ত ভারতীয় রুপি আবারও ডলারের বিপরীতে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে, ততদিন বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভ হয়তো খুব একটা সন্তোষজনক ফলাফল দেবে না।